সংক্ষেপে তাওহীদ পরিচিতি
তাওহীদের তিনটি অংশ
(১) তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ্, (২) তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত ও (৩) তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ্। এ তিনটি অংশ কারো কাছে পাওয়া না গেলে সে ঈমানদার হবে না।
১. তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ্:
আল্লাহ্কে এককভাবে সৃষ্টিতে, রিজিক দানে, জীবনের দান ও মৃত্যুতে, সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এবং আসমান-যমীনের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় একক সত্তা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া।
অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তা‘আলার ফয়সালার মাধ্যমে বিচার, শরী‘আত প্রেরণ, রাসূলগণ প্রেরণ ও কিতাব নাজিল করার বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ্ বলেন,
﴿أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ﴾
“জেনে রাখ! সৃষ্টিও তাঁর, আদেশও তাঁর। বরকতময় তিনি, বিশ্বজগতের প্রতিপালক।”[১]
২. তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত:
আল্লাহ্ তা‘আলাকে তাঁর নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন বা রাসূল ﷺ সহীহ হাদীসে যেভাবে বর্ণনা করেছেন—সেগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করা, নামকরণ করা, তাতে কোনো বিকৃতি সাধন করা নয়, অস্বীকার করা নয়, সাদৃশ্য প্রদান করা নয়, কিংবা রূপ কল্পনা করাও নয়।
বরং বলা হবে,
﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾
“তাঁর মতো কিছুই নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”[২]
৩. তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ্:
আল্লাহ্ তা‘আলাকে এককভাবে ‘ইবাদত পাওয়ার যোগ্য মানা । সুতরাং তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ডাকা যাবে না, কাউকে সাহায্য প্রার্থনা করা যাবে না, তাঁর জন্য ছাড়া আর কারও জন্য কুরবানি বা মানত দেওয়া যাবে না।
আল্লাহ্ বলেন,
﴿قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ﴾
“বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও মৃত্যু সবই আল্লাহ্ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি এভাবেই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।”[৩]
আল্লাহ্ আরও বলেন,
﴿فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ﴾
“অতএব, আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।”[৪]
আল্লাহ্র তাওফীকই একমাত্র কাম্য।
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ, তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
[দেখুন, ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ১/৫৫-৫৬।]