bn বাংলা
বাংলা বাংলা
English English
عربي عربي


+8801575-547999
সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা
Community Welfare Initiative

আব্দুল্লাহ আল-কাসিমি: এক আলেম থেকে নাস্তিক—পতনের কারণ ও শিক্ষা

দুনিয়ার জীবনে একজন মানুষ বহুমুখী ফিতনার সম্মুখীন হয়, তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, ইলমী ফিতনা। ইলমের ফিতনার ‌অনেকগুলো দিক আছে। যার একটি হচ্ছে, ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা বা প্রসিদ্ধ হওয়ার চিন্তা। ইতিহাসে অনেকেই এ ফিতনায় পড়েছে।
– কেউ ইলম অর্জন পূর্ণ না করেই নিজেকে প্রকাশ করতে নেমেছে।
– কেউ ইলম অর্জনের পরে প্রসিদ্ধি পেতে উন্মুখ হয়ে সাড়া না পেয়ে বিমুখ হয়েছে।
– কেউ ইলম অর্জন করে সে ইলমের প্রসিদ্ধি দিয়ে দুনিয়া অর্জন করেছে।

আজকে তেমনি একজনের কথা আপনাদের শোনাচ্ছি, তিনি হচ্ছেন, আব্দুল্লাহ আল-কাসিমী।

ব্যক্তি ও তার অতীত

এই লোকটির নাম হলো “আব্দুল্লাহ বিন আলী আন-নাজদি আল-কাসিমী”। তার সমসাময়িক আলেমরা তাকে “ইবনে তাইমিয়ার খলিফা” হিসেবে আখ্যায়িত করতেন। এর কারণ ছিল:

  • ইসলামের পক্ষে তার বক্তব্যের দৃঢ়তা ও গুণগত মান।
  • সত্যের ওপর তার ক্ষমতা ও সুসংবদ্ধতা।
  • আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে তার সাফল্য ও দৃঢ়তা।

ইসলামের প্রতিরক্ষায় তার বহু রচনা রয়েছে, যা বিভিন্ন ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে সালাফি মানহাজকে (পূর্বসূরিদের পথ) বিজয়ী করতে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল।

তার সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু কাজ:

  • الصراع بين الإسلام والوثنية (ইসলাম ও মূর্তিপূজার মধ্যে সংঘাত): এটি তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ।
  • البروق النجدية في اكتساح الظلمات الدجوية (দাজাওয়ীর অন্ধকার দূর করতে নজদি ঝলক): এটি আল্লাহ ও বান্দার মাঝে মধ্যস্থতা সাব্যস্ত করার বৈধতা দাবি করে এমন লোকদের বিরুদ্ধে তার একটি খণ্ডন।
  • مشكلات الأحاديث النبوية وبيانها (বিভিন্ন হাদীসের উপর আরোপিত অভিযোগ এবং এর ব্যাখ্যা): এটি বস্তুবাদী বিজ্ঞানী ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে একটি খণ্ডন, যেখানে তিনি দেখান যে নবীজীর হাদীস এবং আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।
  • الفصل الحاسم بين الوهابيين ومخالفيهم (ওয়াহাবি এবং তাদের বিরোধীদের মধ্যে চূড়ান্ত পার্থক্য)।
  • نقد كتاب (حياة محمد) (হায়াত মুহাম্মদ গ্রন্থ বইটির সমালোচনা)।

বিচ্যুতি ও খারাপ পরিণতি

ইসলামের পক্ষে এত বিশাল চেষ্টার পর, লোকটি নাস্তিক হয়ে গেল এবং আল্লাহকে অস্বীকার (কুফরি) করল। পরবর্তীতে সে ইসলামকে আক্রমণ করে এবং এর সমালোচনা করে বেশ কয়েকটি নাস্তিকতামূলক-কুফরি বই রচনা করে। এই জঘন্য পরিণতি নিয়েই লোকটি মারা যায়।

আল-কাসিমির প্রথম প্রকাশ্য বিচ্যুতি ঘটে তার هذه هي الأغلال (এগুলোই শেকল) নামক বইটিতে। এরপর তিনি কুফরি মূলক আরও বহু গ্রন্থ রচনা করতে থাকে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে আল্লাহকে অস্বীকারকারী ছিল।

তার বিচ‍্যুতির কারণ সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার শাইখ আব্দুল্লাহ গুনাইমান হাফেযাহুল্লাহ বলেন, “একবার সে বিভিন্ন এলাকায় সফর করে। সে আশা করত যে, তাকে সর্বত্র উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে। ছাত্ররা তাকে স্বাগত জানাবে, ঘিরে থাকবে, লোকেরা তার দিকে এগিয়ে আসবে। কিন্তু সে তার প্রত‍্যাশা অনুরূপ সাড়া পায়নি। ফলে মন খারাপ করে সৌদী আরব ছেড়ে ফেতনাসমৃদ্ধ লেবানন ও অন্যান্য জায়গায় সফর করে, সেখানে সে নারীগঠিত ফিতনায় জড়িয়ে পড়ে। অবশেষে নাস্তিকরা তাকে ঘিরে রাখে। এভাবেই একটি নক্ষত্রের পতন ঘটে।”

এই ঘটনা থেকে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উপদেশ পাই:

  1. নিজের উপর ভরসা করবেন না: এই দুনিয়ায় আল্লাহর সাথে তাওহীদের উপর মিলিত না হওয়া পর্যন্ত নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত মনে করবেন না। কত লোক আল্লাহর দীন ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহর পথের রক্ষক ছিল, অথচ এখন তারা বিদ‘আত, শিরক এবং সেগুলোর বৈধতা দেওয়ার পাঁকে ডুবে আছে।
  2. একমাত্র আল্লাহই ভরসা: আমরা যে ফিতনাগুলোর মধ্যে বাস করছি, সেখানে আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কোনো গতি নেই, আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ নেই, আল্লাহর কসম আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ নেই।
  3. শুধু জ্ঞান যথেষ্ট নয়: শুধু জ্ঞান অর্জন আপনার মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন:
    • আল্লাহর প্রতি বিনয় ও আত্মসমর্পণ (খুদু’ ও যুল্ল)।
    • খারাপ পরিণতি থেকে বাঁচার জন্য দোয়া করা।
    • শালীনতা ও নম্রতা (আদব ও তাওয়াদু’) বজায় রাখা।
    • জ্ঞান অর্জনে আপনার অবস্থান যত বড়ই হোক না কেন, নিজের প্রতি অহংকার না করা।
  4. হাদীসটি স্মরণ রাখা: এই হাদীসটি সর্বদা আপনার চোখের সামনে রাখুন, যতক্ষণ না আপনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করছেন: “নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জান্নাতবাসীর আমল করে, অতঃপর তার আমলের সমাপ্তি হয় জাহান্নামবাসীর আমল দ্বারা। আবার কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জাহান্নামবাসীর আমল করে, অতঃপর তার আমলের সমাপ্তি হয় জান্নাতবাসীর আমল দ্বারা।”[১]
  5. মুক্তির ত্রিভুজ: মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই নিচের তিনটি দিক আঁকড়ে ধরতে হবে।
    1. আল্লাহর তাকওয়া
    2. ঈমান
    3. আমলে সালেহ।

গুরুত্বপূর্ণ সংযুক্তি: তার একজন সঙ্গী, যিনি তার ধর্মত্যাগের আগে তার সাথে ছিলেন, বলেছেন যে আল-কাসিমির মধ্যে নিজের প্রতি সুস্পষ্ট অহংকার ছিল। তিনি নিজের জ্ঞান এবং বিদ‘আতিদের খণ্ডনের জন্য নিজের প্রশংসা করে কবিতা লিখতেন।

  1. [১]সহীহ মুসলিম।
Share on