bn বাংলা
বাংলা বাংলা
English English
عربي عربي


+8801575-547999
সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা
Community Welfare Initiative

সালাফের আকীদা ও মুরজিয়াদের আকীদার মধ্যে ঈমানের পার্থক্য

ইমাম, হাফেয আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
“আমি এক হাজারেরও বেশি আলেমের সাক্ষাৎ লাভ করেছি। তাঁরা ছিলেন হিজাজ, মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা, ওয়াসিত, বাগদাদ, শাম ও মিসরের আলেম। আমি তাঁদের সঙ্গে প্রায় ৪৬ বছর ধরে সাক্ষাৎ করেছি—প্রথমে এক প্রজন্মের সঙ্গে, তারপর তার পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে, এভাবে এক শতাব্দীর পর আরেক শতাব্দী।

তাঁদের মধ্যে আলেমদের যে স্তরগুলো আমি পেয়েছি, তাঁরা ছিলেন পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁদের অধিকাংশই এমন ছিলেন, যাঁদের সঙ্গে আমার ৪৪ বছর পর্যন্ত সাক্ষাৎ হয়েছে।

আমি শাম ও মিসরের লোকদের সঙ্গে দুইবার, জাযীরার লোকদের সঙ্গে দুইবার এবং বসরার লোকদের সঙ্গে চারবার সাক্ষাৎ করেছি। যাঁদের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছি, তাঁদের সংখ্যা গণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন: আল-মাক্কী ইবন ইবরাহীম, ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া, আলী ইবনুল হাসান ইবন শকীক, কুতাইবা ইবন সাঈদ এবং শিহাব ইবন মা‘মার।

শামের আলেমদের মধ্যে ছিলেন: মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবী, আবু মুসহির আবদুল আ‘লা ইবন মুসহির, আবুল মুগীরাহ আবদুল কুদ্দুস ইবন হাজ্জাজ, আবু ইয়ামান আল-হাকাম ইবন নাফি‘ এবং তাঁদের পরবর্তী আরও অনেকে।

মিসরের আলেমদের মধ্যে ছিলেন: ইয়াহইয়া ইবন কাসীর, আবু সালিহ (কাতিবুল লাইস ইবন সা‘দ), সাঈদ ইবন আবি মারইয়াম, আসবাগ ইবনুল ফারাজ এবং নু‘আইম ইবন হাম্মাদ।

মক্কার আলেমদের মধ্যে ছিলেন: আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আল-মুকরি, আল-হুমাইদী, সুলাইমান ইবন হারব—মক্কার কাজী—এবং আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-আযরাকী।”

মদিনার আলেমদের মধ্যে ছিলেন:
ইসমাঈল ইবনু আবি উওয়াইস, মু‘তারিফ ইবনু আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবনু নাফি‘ আয-যুবাইরী, আহমদ ইবনু আবি বকর আবু মুস‘আব আয-যুহরী, ইবরাহিম ইবনু হামযাহ আয-যুবাইরী এবং ইবরাহিম ইবনুল মুনযির আল-হিযামী।

বসরায় ছিলেন: আবু আসিম আদ-দাহহাক ইবনু মাখলাদ আশ-শায়বানী, আবু উলায়দ হিশাম ইবনু আবদুল মালিক, আল-হাজ্জাজ ইবনু আল-মিনহাল, আলী ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু জা‘ফর আল-মাদিনী।

কুফায় ছিলেন: আবু নু‘আইম আল-ফাদল ইবনু দুকাইন, উবাইদ ইবনু মূসা, আহমদ ইবনু ইউনুস, কুবাইসাহ ইবনু উকবাহ, ইবনু নুমাইর, আবদুল্লাহ এবং উসমান ইবনু আবি শাইবাহ।

বাগদাদে ছিলেন: আহমদ ইবনু হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন, আবু মা‘মার, আবু খাইসামাহ এবং আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনু সাল্লাম।
জাযীরার অধিবাসীদের মধ্যে ছিলেন: আমর ইবনু খালিদ আল-হাররানী।

ওয়াসিতের অধিবাসীদের মধ্যে ছিলেন: আমর ইবনু আওন এবং আসিম ইবনু আলী ইবনু আসিম।

মারভে ছিলেন: সাদাকাহ ইবনুল ফাদল এবং ইসহাক ইবনু ইবরাহিম আল-হানযালী।

এদের নাম উল্লেখ করেই সংক্ষেপে বলা যথেষ্ট হবে। কারণ, আমি তাদের কারও মধ্যেই এসব বিষয়ে মতভেদ দেখতে পাইনি। তাঁদের মতে, ঈমান হলো কথা ও আমল।

— শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ ১/১৯৩।

অর্থাৎ,
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) এখানে তাঁর সাক্ষাৎপ্রাপ্ত বিপুলসংখ্যক প্রাচীন আলেমের আকীদাগত ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করছেন যে তারা সকলেই বলতেন, ঈমান কথা ও কাজের সমষ্টিগত নাম। আর তার বিবরণ হচ্ছে—
কথা দুটি:
১- অন্তরের কথা বা তাওহীদের কালেমায় বিশ্বাস।
২- জিহ্বার কথা বা তাওহীদের উচ্চারণ বা ঘোষণা।

আমল তিনটি:
৩- অন্তরের আমল, যেমন ভালোবাসা, ভয়, আশা।
৪- জিহ্বার আমল, যেমন কুরআন তেলাওয়াত।
৫- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল, যেমন রুকু, যবাই, মানত।

Share on