আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর কবর
ইবনু কাছীর তাঁর আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (৭/৩৩০-৩৩১)-এ আলী ইবনু আবি তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কোথায় দাফন হয়েছেন—এ বিষয়ে বিভিন্ন মত উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
সারকথা হলো, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মারা গেলে তাঁর ছেলে হাসান ইবনু আলী তাঁর সালাতুল জানাযা পড়ান এবং নয়টি তাকবীর দেন। এরপর তাঁকে কুফার দারুল ইমারাতে দাফন করা হয়; কারণ খারিজিরা তাঁর লাশ উত্তোলন করতে পারে—এই আশঙ্কা ছিল। এটাই প্রসিদ্ধ মত।
আর যারা বলে যে, তাঁকে একটি বাহনে বহন করা হয়েছিল, তারপর সেই বাহন কোথায় চলে গেছে তা আর জানা যায়নি—তারা ভুল করেছে এবং এমন বিষয়ে জোরপূর্বক কথা বলেছে যার কোনো জ্ঞান তাদের নেই। এটা না বিবেকসম্মত, না শরীআতসম্মত।
আর রাফেজিদের অনেক অজ্ঞ লোক যে বিশ্বাস করে যে তাঁর কবর নাজাফের মাজারে রয়েছে—এর কোনো দলিল বা ভিত্তি নেই। বরং বলা হয়, সেটি আসলে মুগীরা ইবনু শু‘বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর কবর!
এ কথা আল-খতীব আল-বাগদাদী বর্ণনা করেছেন আবু নু‘আইম আল-আসফাহানী থেকে, তিনি আবু বকর আত-তালহী থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-হাদরামী থেকে, তিনি মুতার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “শিয়ারা যদি জানতে পারত নাজাফে যাকে তারা এত সম্মান করে, তার প্রকৃত পরিচয় কী—তাহলে তারা তাকে পাথর মেরে ভেঙে ফেলত! এটা তো মুগীরা ইবনু শু‘বার কবর।”
এরপর ইবনু কাছীর আরো বলেন,
আরো বলা হয়েছে, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কুফার জামে মসজিদের কিবলামুখী অংশে দাফন করা হয়েছিল—এ কথা বলেছেন আল-ওয়াকিদী। তবে প্রসিদ্ধ মত হলো, তাঁকে দারুল ইমারাতে দাফন করা হয়। আরো বলা হয়েছে, তাঁকে কুফা জামে মসজিদের দেয়ালের পাশে দাফন করা হয়েছিল।
আল-খতীব আল-বাগদাদী আবু নু‘আইম আল-ফাদল ইবনু দুকাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, হাসান ও হুসাইন তাঁকে পরে মদিনায় নিয়ে যান এবং বাকি‘তে ফাতিমাহ-এর কবরের পাশে দাফন করেন। আরো বলা হয়েছে, তাঁকে যখন উটের ওপর বহন করা হচ্ছিল, তখন তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন। পরে ‘তাই’ গোত্রের কিছু লোক উটটিকে মালপত্র মনে করে নিয়ে যায়। বাক্স খুলে যখন তারা দেখে ভেতরে একজন মৃত ব্যক্তি, কিন্তু চিনতে পারেনি কে—তখন তারা সেই অবস্থায় দাফন করে দেয়। ফলে আজ পর্যন্ত কেউ জানে না তাঁর কবর কোথায়। এটিও আল-খতীব উল্লেখ করেছেন।
হাফেজ ইবনু আসাকির বর্ণনা করেন, হাসান ইবনু আলী বলেছেন: “আমি আলীকে জা‘দাহ পরিবারের একটি ঘরে দাফন করেছি।” আর আবদুল মালিক ইবনু উমাইর বলেন: “যখন খালেদ ইবন আব্দুল্লাহ তাঁর ছেলে ইয়াযীদের বাড়ির ভিত্তি খনন করছিলেন, তখন তারা এক বৃদ্ধ লোকের লাশ বের করেন—মাথা ও দাড়ি সাদা, যেন গতকালই দাফন করা হয়েছে। তিনি প্রথমে তা পুড়িয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন, পরে আল্লাহ তাকে তা থেকে ফিরিয়ে দেন। এরপর কাপড়ে জড়িয়ে সুগন্ধি লাগিয়ে আগের জায়গাতেই রেখে দেন।” তারা বলেন, ঐ স্থানটি ছিল মসজিদের কিবলামুখী অংশে ওয়াররাকীন ফটকের পাশে, এক মুচির ঘরে। এবং সেখানে কেউ স্থায়ীভাবে থাকতে পারত না—অল্পদিনেই সরে যেত।
আর জাফর আস-সাদিক বলেছেন,
“আলীকে রাতে জানাযা দেওয়া হয়, কুফায় দাফন করা হয় এবং তাঁর কবরের স্থান গোপন রাখা হয়। তবে সেটি ছিল দারুল ইমারার কাছে।”আর ইবনুল কালবী বলেন,
“রাতে তাঁর দাফনে উপস্থিত ছিলেন হাসান, হুসাইন, মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ, আবদুল্লাহ ইবনু জাফর এবং আহলুল বাইতের অন্যান্য সদস্যরা। তাঁরা তাঁকে কুফার বাইরে দাফন করেন এবং খারিজি ও অন্যদের ভয়ে কবর গোপন রাখেন।”
আর আয-যাহাবী তাঁর সিয়ার আ‘লামিন নুবালা (১৬/২৫০)-এ “আযদুদ দাওলা” উপাধিধারী হাসান ইবনু বুয়াইহ আদ-দাইলামী-এর জীবনীতে বলেন:
বর্ণিত আছে, মৃত্যুশয্যায় তার জিহ্বায় শুধু এই আয়াতই বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল: “আমার সম্পদ আমার কোনো উপকারে এলো না। আমার ক্ষমতাও ধ্বংস হয়ে গেল।”[১] সে মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সে ছিল কঠোরপন্থী শিয়া। সে নাজাফে একটি কবর প্রকাশ করে দাবি করল যে সেটি ইমাম আলীর কবর। এরপর সে সেখানে মাজার নির্মাণ করে, রাফেজিবাদের বিভিন্ন নিদর্শন প্রকাশ করে এবং আশুরার মাতম চালু করে।
এছাড়াও শিয়াদের হাস্যকর দাবি, অপবাদ ও পরস্পরবিরোধী কথার একটি হলো: তারা নাজাফ ছাড়াও আলী ইবনু আবি তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর একাধিক কবর বিভিন্ন স্থানে দাবি করেছে! সম্ভবত এর কারণ হলো, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতা।
তাদের দাবিকৃত কবরগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- মাজার-ই-শরীফ-এ একটি কবর,
- রামলা শহরে আরেকটি,
- বাইতুল মুকাদ্দাস ও ইয়াফার মাঝের সুলতানি সড়ক-এ আরেকটি,
- এবং আক্কা শহরে আরেকটি কবর।
বস্তুত এগুলোর কোনোটাই আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কবর না। আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়ায় আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কবরকে পূজা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু শিয়া-রাফেযীরা অন্যের কবর অথবা নাই কবরের পিছনে ছুটে চলেছে।
- [১]আল-হাক্কাহ ২৮-২৯।