ফিকহের ইমামগণের মধ্যে মতভেদের কারণ কী?
সর্বপ্রথম এটা জানা জরুরি যে, দীনের বিষয়গুলো দুই ধরনের—
- মৌলিক বিষয়
- শাখাগত বিষয়
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, দীনের বিষয়াদির মধ্যে মতভেদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান কেমন হবে? এর বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ।
প্রথমত: দুই ধরনের মতভেদের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি
১. দীনের মৌলিক বিষয় ও অকাট্য বিধানসমূহে মতভেদ
যেমন—তাওহীদের মূলনীতি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত, সালাত ফরজ হওয়া, ব্যভিচার হারাম হওয়া ইত্যাদি—যেসব বিষয় অকাট্য ও সহীহ দলিল দ্বারা প্রমাণিত অথবা যার ওপর ইজমা তথা আলিমদের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বস্তুত, চার মাযহাবের উদ্ভবের ক্ষেত্র এটি ছিল না।
২. ফিকহের শাখাগত বিষয়ে মতভেদ
এ মতভেদই ছিল ইমামদের কর্মক্ষেত্র। এখানে মতভেদ সম্ভব এবং তা সংঘটিত হওয়াও স্বাভাবিক।
যেমন—সালাতের কিছু বিবরণ, অজু, যাকাত, তালাক, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদির বিভিন্ন মাসআলা।
এসব বিষয়ে কখনো দলিলের প্রামাণিকতা বা অর্থবোধকতা এমন পর্যায়ের হতে পারে, যেখানে “নিশ্চিততা”র পরিবর্তে “সম্ভাবনা” থাকে। ফলে মুজতাহিদ আলিমগণ দলিল ও ইজতিহাদের নীতিমালা অনুসরণ করেও ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন।
মতভেদের প্রধান কারণসমূহ
১. কোনো হাদীস ইমামের কাছে পৌঁছায়নি
এটি মতভেদের অন্যতম সুস্পষ্ট কারণ।
ইমামদের যুগে সমগ্র সুন্নাহ একটিমাত্র গ্রন্থে সংকলিত ছিল না, যাতে প্রত্যেক আলিম সহজেই সব হাদীসে পৌঁছাতে পারতেন। বরং বিভিন্ন অঞ্চলে ও বিভিন্ন রাবির কাছে হাদীসগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তাই এমন হতে পারে যে, কোনো হাদীস আজ আমাদের কাছে সহীহ হিসেবে প্রমাণিত, কিন্তু যে ইমাম কোনো মাসআলায় ইজতিহাদ করেছেন, তাঁর কাছে সেই হাদীসটি পৌঁছেনি।
২. হাদীস পৌঁছালেও ইমামের কাছে তা প্রমাণিত হয়নি
কোনো ইমাম হয়তো একটি হাদীস শুনেছেন, কিন্তু তাঁর কাছে সেটির সনদ গ্রহণযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। অথচ অন্য একজন ইমাম সেটিকে সহীহ মনে করেছেন।
এ ক্ষেত্রে মূলত সুন্নাহ অস্বীকার করার ব্যাপার নয়; বরং হাদীসটি প্রমাণিত কি না এবং সেটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য কি না—এ বিষয়ে মতভেদ হয়েছে।
আলিমগণ আরও কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন—যেমন কোনো রাবির ব্যাপারে আস্থা না থাকা, তাঁর অবস্থা সম্পর্কে মতভেদ থাকা, সনদটি সংযুক্ত কি না তা নিয়ে মতভেদ হওয়া ইত্যাদি।
৩. দলিলের বক্তব্য বোঝার ক্ষেত্রে মতভেদ
দুই ইমাম কোনো হাদীসের সহীহ হওয়ার ব্যাপারে একমত হলেও তার উদ্দেশ্য ও অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন।
এমন ঘটনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সাহাবিদের মধ্যেও ঘটেছিল।
এর অন্যতম প্রসিদ্ধ উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:
তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইযায় পৌঁছার আগে আসরের সালাত আদায় না করে।
কিছু সাহাবি এর অর্থ বুঝেছিলেন—তাঁদের দ্রুত বনু কুরাইযার দিকে যেতে হবে এবং সেখানে পৌঁছেই আসরের সালাত আদায় করতে হবে। ফলে তাঁরা সেখানে পৌঁছার পরই আসরের সালাত আদায় করেন।
অন্য সাহাবিগণ বুঝেছিলেন—এর উদ্দেশ্য হলো দ্রুত সেখানে পৌঁছানোর জন্য উৎসাহিত করা। তাই তাঁরা সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলে পথেই আসরের সালাত আদায় করেন।
ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছালে তিনি তাঁদের কাউকেই ভর্ৎসনা করেননি। (সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম)
৪. আরবি ভাষার এমন শব্দ থাকা, যার একাধিক অর্থ হতে পারে
ফিকহে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿وَٱلۡمُطَلَّقَٰتُ يَتَرَبَّصۡنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَٰثَةَ قُرُوٓءٖۚ…٢٢٨﴾ [البقرة: ٢٢٨]
“তালাকপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদেরকে তিন ‘কুরূ’ পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখবে।” [সূরা আল-বাকারা: ২২৮]
আরবি “কুরূ” (قروء) শব্দটি ভাষাগতভাবে কখনো ঋতুস্রাব অর্থে এবং কখনো পবিত্রতার সময়কাল অর্থে ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং কোনো ফকিহ যদি এর একটি অর্থ গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি একটি বিধানে উপনীত হন; আর অন্য অর্থ গ্রহণকারী ফকিহ ভিন্ন বিধানে উপনীত হতে পারেন।
৫. সাধারণ ও বিশেষ বিধানের ক্ষেত্রে মতভেদ
কখনো একটি দলিল ব্যাপক বা সাধারণ বিধান নিয়ে আসে, পরে অন্য একটি দলিল তার কিছু অংশকে বিশেষ করে দেয়। তখন ফকিহদের মধ্যে মতভেদ হতে পারে—দ্বিতীয় দলিলটি কি প্রথম দলিলের সাধারণ বিধানকে নির্দিষ্ট করছে, নাকি করছে না? এই ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দলিলটি কি প্রমাণিত? তার দ্বারা বিশেষীকরণের প্রমাণ কতটা শক্তিশালী?
একইভাবে সীমাহীন বিধানকে সীমাবদ্ধ করা, সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ইত্যাদি বিষয়েও মতভেদ হতে পারে।
৬. আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী দলিলগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে মতভেদ
কখনো একই বিষয়ে একাধিক হাদীস পাওয়া যায় এবং প্রথম দৃষ্টিতে মনে হয়, এগুলোর মধ্যে বিরোধ রয়েছে। কিন্তু একজন ইমাম হয়তো সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার সুযোগ দেখেন। অন্যজন মনে করেন—একটি আগের বিধান এবং অন্যটি পরের বিধান; অথবা একটি বিশেষ আর অন্যটি সাধারণ; কিংবা একটি দলিল অন্যটির তুলনায় অধিক শক্তিশালী।
যেমন, নিষিদ্ধ সময়গুলোতে সালাত আদায়ের কিছু বিধান নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে একদিকে নিষিদ্ধ সময়ে সালাত আদায় না করার হাদীস এবং অন্যদিকে মসজিদে প্রবেশ করলে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায়ের নির্দেশসংবলিত হাদীসগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন।
৭. রহিতকারী ও রহিত বিধান শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মতভেদ
কোনো ইমাম মনে করতে পারেন যে, একটি হাদীস বা বিধান পরবর্তী কোনো বিধান দ্বারা রহিত হয়েছে; অন্য ইমাম সেই রহিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত মনে নাও করতে পারেন। এর ফলে উভয়েই দলিলের ওপর নির্ভরশীল থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ফিকহি সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে।
৮. কিছু দলিলের গ্রহণযোগ্যতা ও বিধান নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ
এখানেই বিভিন্ন মাযহাবের উসূলুল ফিকহ বা বিধান নির্ণয়ের মূলনীতিগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইমামগণ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর দলিল গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে একমত। তবে তাঁরা কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। যেমন—
- কোন পরিস্থিতিতে একক বর্ণনাকারীর হাদীস গ্রহণ করা হবে?
- আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী দলিলের ক্ষেত্রে কোন দলিলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে?
- নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইজমার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু?
- কখন কিয়াস বা তুলনামূলক যুক্তি প্রয়োগ করা যাবে?
- মদিনাবাসীর আমলের কতটুকু শরিয়তগত গুরুত্ব রয়েছে?
- কখন ‘ইস্তিহসান’ তথা অধিক উপযোগী বিধান গ্রহণের নীতি প্রয়োগ করা হবে?
- জনকল্যাণমূলক বিবেচনা বা ‘মাসালিহ মুরসালাহ’-এর কতটুকু গুরুত্ব রয়েছে?
- ক্ষতির পথ বন্ধ করার নীতি তথা ‘সাদ্দুয যারায়ি’ কীভাবে প্রয়োগ করা হবে?
এসব মূলনীতিগত পার্থক্যের কারণে কখনো চূড়ান্ত ফিকহি সিদ্ধান্তেও পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।
৯. অন্য কোনো দলিলের কারণে হাদীসের ভিত্তিতে সরাসরি আমল না করার ক্ষেত্রে মতভেদ
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কোনো ইমাম বলতে পারেন: “হাদীসটি সহীহ; কিন্তু এই নির্দিষ্ট মাসআলায় এর চেয়েও শক্তিশালী অন্য একটি দলিল রয়েছে।”
অন্য একজন ইমাম মনে করতে পারেন—এই হাদীসই অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।
তাই শুধু এ কথা বলা, “এই হাদীস তো সহীহ; তাহলে আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি বা আহমাদ কেন তা গ্রহণ করলেন না?”—এটি যথেষ্ট নয়।
বরং সঠিক ইলমী প্রশ্ন হলো—
- হাদীসটি কি তাঁর কাছে পৌঁছেছিল?
- তিনি কি সেটিকে সহীহ মনে করেছিলেন?
- তিনি হাদীসটির অর্থ কী বুঝেছিলেন?
- তিনি কি মনে করেছিলেন যে এটি অন্য কোনো দলিল দ্বারা রহিত বা বিশেষায়িত হয়েছে?
- অথবা তাঁর কাছে কি এর বিরোধী কোনো অধিক শক্তিশালী দলিল ছিল?
১০. প্রত্যেক ইমামের জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ভিন্ন ছিল
আবু হানিফা এমন একটি জ্ঞানচর্চার পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন, যেখানে নিজস্ব কিছু বর্ণনা ও ফিকহি সমস্যার চর্চা ছিল। ইমাম মালিক ছিলেন মদিনার পরিবেশে। ইমাম শাফেয়ি বিভিন্ন জ্ঞানকেন্দ্রে ভ্রমণ করেছেন। আর ইমাম আহমাদ ছিলেন হাদীসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম।
এসব ভিন্ন পরিবেশ তাঁদের কাছে পৌঁছানো হাদীস ও ফিকহি উপাদান এবং বিভিন্ন মাসআলা বিবেচনার পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলেছে।
পরবর্তীতে তাঁদের ছাত্ররা তাঁদের বক্তব্যগুলো সংকলন করেছেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, কোনো কোনো বক্তব্যের মধ্যে তুলনা করে অধিক গ্রহণযোগ্যটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ইমামের কোনো মত পরিত্যাগও করেছেন।
তাই একটি মাযহাব সবসময় তার প্রতিষ্ঠাতা ইমামের প্রত্যেকটি বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ অভিন্ন—এমন নয়।
১১. সুস্পষ্ট দলিল না থাকা মাসআলায় কিয়াস ও ইজতিহাদের ভিন্নতা
জীবনের প্রতিটি নতুন ঘটনা একে একে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলিলে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ফকিহকে শরিয়তের মূলনীতিগুলো নতুন পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করতে হয়। এখানে কিয়াসসহ বিভিন্ন বিধান নির্ণয়ের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
একজন ফকিহ কোনো নতুন মাসআলাকে একটি নির্দিষ্ট মূল বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন, আর অন্যজন সেটিকে অন্য একটি মূল বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। অথবা তাঁরা সংশ্লিষ্ট কারণ বা ‘ইল্লত’ ভিন্নভাবে নির্ধারণ করতে পারেন।
১২. কিছু ফতোয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি ও বাস্তবতার ভিন্নতার কারণে মতভেদ
কিছু ফিকহি বিধান মানুষের প্রচলিত রীতি, সামাজিক প্রথা, পরিস্থিতি ও বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই যেসব বিষয়ে প্রচলিত রীতি, বাস্তবতা ও বিধানের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ভূমিকা রয়েছে, সেসব বিষয়ে রীতি, বাস্তবতা ও পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে ফতোয়াতেও পার্থক্য হতে পারে।
তবে এটি এমন কোনো অকাট্য বিধানের ক্ষেত্রে নয়, যা সুস্পষ্ট দলিল দ্বারা স্থির হয়ে গেছে। এ কারণেই ফকিহগণ বাস্তবতার ওপর শরিয়তের মূলনীতিগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং মানুষের বাস্তব জীবন থেকে ফিকহকে বিচ্ছিন্ন করেননি।
তাহলে কি এর অর্থ হলো, ইমামদের একজন সবসময় সত্যের ওপর এবং অন্যজন সবসময় বাতিলের ওপর?
না।
যেসব ইজতিহাদি মাসআলায় একাধিক দৃষ্টিভঙ্গির সুযোগ রয়েছে, সেখানে কোনো একটি মত অন্যটির তুলনায় অধিক সঠিক হতে পারে। কিন্তু কোনো গ্রহণযোগ্য ফিকহি মতের অস্তিত্ব এ কথা প্রমাণ করে না যে, সেই মতের প্রবক্তা ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করেছেন। বরং আলিমগণ নিজেরাই ব্যাখ্যা করেছেন যে, একজন মুজতাহিদ আল্লাহর উদ্দেশ্য ও বিধানের সঠিক অর্থে পৌঁছানোর জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তাই তাঁদের মতভেদ ছিল দলিল, মূলনীতি ও ইজতিহাদের ভিত্তিতে; প্রবৃত্তি বা খেয়ালখুশির ভিত্তিতে নয়।
ইমামদের নিজেদের অবস্থান
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইমামগণ নিজেরাও মানুষকে এ কথা বলেননি: “আমার মত গ্রহণ করো, কারণ আমি ভুলের ঊর্ধ্বে।” কারণ শরিয়তের বিধান প্রণয়নে নিষ্পাপত্ব ও নির্ভুলতা কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য। আর আলিমদের ইজতিহাদ নিষ্পাপ ও ভুলের ঊর্ধ্বে নয়।
আলহামদুলিল্লাহ।