bn বাংলা
বাংলা বাংলা
English English
عربي عربي


+8801575-547999
সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা
Community Welfare Initiative

আশ‘আরী-মাতুরিদীদের বক্তব্য খণ্ডন [পর্ব-২]

আমরা এখনো কিছু জীবিত সৃষ্টির ‘কথা বলার’ (কালাম) গুণ নিয়ে আলোচনা করছি। আগের পর্বে আমরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম যে, এসব সৃষ্টি অক্ষর, শব্দ ও ভাষার মাধ্যমে কথা বলে; তারা একে অপরের ভাষা বোঝে, কিন্তু আমরা তা বুঝি না এবং এর প্রকৃত ধরনও জানি না। আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে আমাদেরও তা বুঝিয়ে দিতেন, যেমন তিনি তাঁর নবী সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-কে বুঝিয়েছিলেন।

আজকের প্রশ্ন পিঁপড়ার কথা বলার গুণ সম্পর্কে।

আল্লাহ কি পিঁপড়াকে সৃষ্টি করার সময় থেকেই তার মধ্যে এই গুণ সৃষ্টি করেছেন, নাকি পরে সৃষ্টি করেছেন? অবশ্যই তিনি এটি পিঁপড়ার একটি গুণ হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ পিঁপড়ার মধ্যে কথা বলার গুণ তার সৃষ্টির শুরু থেকেই বিদ্যমান।

পিঁপড়া যখন কথা বলতে চায়, তখন কি কথা বলে? হ্যাঁ, কারণ সে সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর সামনে কথা বলেছিল। তাহলে পিঁপড়ার কথা বলা একটি নবায়নশীল (মুতাজাদ্দিদ) বা সংঘটিত হওয়া বিষয়; অর্থাৎ যখন ইচ্ছা করে, তখন কথা বলে। এখন প্রশ্ন হলো, এইভাবে কথা বলার ক্ষমতা কি পিঁপড়ার জন্য প্রশংসনীয় গুণ, নাকি ত্রুটিপূর্ণ গুণ? অন্যভাবে বললে, কোন পিঁপড়া উত্তম—যে ইচ্ছা করলে কথা বলতে পারে, নাকি যে কথা বলার গুণ থাকার পরও ইচ্ছা করলে কথা বলতে পারে না, বরং বোবা মানুষের মতো শুধু ইশারায় যোগাযোগ করে? নিশ্চয়ই যে কথা বলতে পারে, সে-ই উত্তম।

তোমার বিবেকে কি এ কথা অসংগত মনে হয় যে, পিঁপড়ার মধ্যে কথা বলার গুণ তার সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে, আবার সে যখন ইচ্ছা করে তখন কথা বলে? না। বরং আমরা এটিকে পিঁপড়ার জন্য পূর্ণতার গুণ মনে করি, আর যে কথা বলতে পারে না তাকে অপূর্ণ মনে করি।

তাহলে, হে আমার আশআরী-মাতুরিদী ভাই! তোমরা কেন আল্লাহর জন্য কালামের (কথা বলার) গুণ সাব্যস্ত করো এবং বলো যে তা তাঁর সত্তার মতোই অনাদি; কিন্তু একই সঙ্গে অস্বীকার করো যে আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন তখন কথা বলেন, যা তাঁর কালামের নবায়নশীলতা নির্দেশ করে? কেন তোমরা তাঁকে এমন এক বোবার সঙ্গে তুলনা করো, যে কথা বলতে পারে না, বরং কেবল ইঙ্গিতের মাধ্যমে যোগাযোগ করে? অথচ তোমরা মনে করো যে, এভাবেই নাকি আল্লাহকে সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র করা হয়! বাস্তবে তোমরা তাঁকে অপূর্ণতার বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করছ। আল্লাহ তোমাদের কথার ঊর্ধ্বে।

আল্লাহর বাণী সম্পর্কে তোমরা কী বলবে—

﴿…وَكَلَّمَ ٱللَّهُ مُوسَىٰ تَكۡلِيمٗا ١٦٤﴾ [النساء: ١٦٤]

“আর আল্লাহ মূসার সঙ্গে (পর্দার আড়াল থেকে) সরাসরি কথা বলেছেন।”

তোমরা কি বলবে, তিনি আযল (অনাদি কালে) মূসার সঙ্গে কথা বলেছেন?

আর আল্লাহর বাণী—

﴿وَإِذۡ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ…١٠﴾ [الشعراء: ١٠]

“আর যখন তোমার রব মূসাকে আহ্বান করলেন…”

তোমরা কি বলবে, তিনি আযলেই তাকে আহ্বান করেছিলেন?

আর কুরআন সম্পর্কে কী বলবে? এটি তো আল্লাহর কালাম। তোমরা বলো, আল্লাহ আযলেই তা বলেছেন; তাই এটি নতুন নয় এবং সৃষ্টও নয়। তাহলে কেন তোমরা আল্লাহর জন্য কালামের নতুন সংঘটন বা নবায়নকে অস্বীকার কর?

তোমাদের উত্তর:

“কারণ নতুনভাবে কথা বলা অপূর্ণতার লক্ষণ। এতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রয়োজন হয়। আর অপূর্ণতা আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব। তাছাড়া এতে আল্লাহকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দেওয়া হয়। তাই আমরা আল্লাহকে এসব থেকে পবিত্র রাখি।”

তাহলে কি তোমরা এমন মনে করলে যে, সৃষ্টির ক্ষেত্রে কথা বলার নবায়নশীলতা পূর্ণতার গুণ, কিন্তু স্রষ্টার ক্ষেত্রে তা অপূর্ণতার গুণ?

“তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেমন বিচার কর?”

হে ভাই!
তোমার রব নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন তা সত্য বলে মেনে নাও। তাঁর গুণাবলির ব্যাপারে নিজের যুক্তিকে চূড়ান্ত বিচারক বানিয়ো না। আমাদের বিবেক ও বুদ্ধি তাঁর প্রকৃত সত্তা ও গুণাবলি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে অক্ষম।

আমরা বিশ্বাস করি: “তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই।”

আর যা কিছু তোমার মনে আসে, আল্লাহ তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কালামের গুণ আল্লাহর অনাদি গুণ। একই সঙ্গে আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, যে সময় ইচ্ছা করেন, তখন কথা বলেন। তাঁর কথা বলা তাঁর অনাদি সত্তার সঙ্গে কোনো বিরোধ সৃষ্টি করে না।

আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ আওয়াজ, শব্দ ও অক্ষরসহ কথা বলেন, তবে তিনি কথা বলার জন্য কোনো যন্ত্র বা অঙ্গের মুখাপেক্ষী নন—সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা। কিন্তু এর কীভাবে হওয়া আমরা জানি না, কারণ তিনি আমাদের তা জানাননি।

আমি নিশ্চিত যে, তুমি আল্লাহকে অপূর্ণতা থেকে পবিত্র রাখতে এবং সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে মুক্ত রাখতে চাও। কিন্তু বাস্তবে তুমি আল্লাহকে এমন বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করছ, যার অর্থ দাঁড়ায়—তিনি ইচ্ছা করলে কথা বলতে সক্ষম নন।

আল্লাহ আমাদের এবং তোমাকে সত্যের পথে পরিচালিত করুন এবং তাঁর গুণাবলি সেভাবেই বুঝার তাওফীক দিন, যেভাবে তিনি নিজেই সেগুলো বর্ণনা করেছেন।

আর তাঁর বাণীকে তাওয়ীলের মাধ্যমে বিকৃত করো না; কারণ এটি আল্লাহর কথাকে অস্বীকার করা এবং তার স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার শামিল।

ইনশাআল্লাহ, তৃতীয় পর্বে আবার সাক্ষাৎ হবে।

Share on