bn বাংলা
বাংলা বাংলা
English English
عربي عربي


+8801575-547999
সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা
Community Welfare Initiative

সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে আল্লাহর তাওহীদ

তোমরা তোমাদের সন্তানদের তাওহিদ (আল্লাহর একত্ব) শিক্ষা দাও — তাওহীদ শেখানোর এ কাজটি করো এমন কিছুর আগে যে তারা লোহার (শৃঙ্খল/তলোয়ার/মাজারের গ্রিল) চুমু খাবে, আস্তানার সামনে সেজদা করবে এবং মৃতদের কাছে সাহায্য (মাদাদ) চাইবে!

তাদের শেখাও— দোয়া শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই করা যায়। সাফল্য শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) ও তাঁর কাছ থেকে আশা রাখার মাধ্যমেই আসে, তবে সাথে কারণ-উপায়ও নিতে হবে। (তবে সেটাও যেন শরীআত অনুমোদিত উপায় হয়।) আরোগ্য (সুস্থতা) আল্লাহর হাতে, কারও হাতে নয়; চিকিৎসা কেবল একটি মাধ্যম মাত্র। (সে চিকিৎসাও যেন শির্ক দিয়ে না করা হয়।) ভবিষ্যৎও আল্লাহর হাতে, তাঁর জ্ঞানের মধ্যে। তিনি ব্যতীত ভবিষ্যত কেউ জানে না। (যারা জানার দাবী করবে তারা তাগূত আর যারা জানতে চাইবে তারা ভণ্ড, প্রতারক ও শির্কের পথপ্রদর্শক।)

তাদের শেখাও— প্রয়োজন শুধু আল্লাহর কাছেই চাওয়া যায়, ভয় ও বিপদ থেকে মুক্তি কেবল আল্লাহই দিতে পারেন। আল্লাহর উপর নির্ভর করো, সাহায্য চাও আল্লাহর কাছ থেকে, যবেহ করো আল্লাহর জন্যেই, আর মাদাদ বা সাহায্যও আল্লাহর কাছ থেকেই চাও। কারণ, যদি এ মৃতদের কারও ক্ষমতা থাকত, তবে তারা নিজেদেরই উপকার করত!

তাদের শেখাও— নবী ﷺ মারা গেছেন, কিন্তু তাঁর স্ত্রীরা বা সাহাবীগণ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) কেউই তাঁর কবরের কাছে গিয়ে কিছু চাননি, যুদ্ধ, প্লেগ, দুর্ভিক্ষ, রোগ—সব পরীক্ষায় তাঁরা পড়েছেন, তবুও তাঁরা কখনও রব ছাড়া কারও কাছে দোয়া করেননি, তাঁরা কেবল আল্লাহকেই ডাকতেন, কেবল আল্লাহর জন্যই সেজদা করতেন, কেবল আল্লাহর কাছেই কাঁদতেন, এবং তাঁদের চোখের পানি ঝরত শুধু আল্লাহর জন্যেই।

অবাক লাগে! যে ব্যক্তি প্রতিদিন পড়ে—إياك نعبد وإياك نستعين (আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই সাহায্য চাই)—সে-ই আবার মৃতদের কাছে সাহায্য চায়!

তোমাদের সন্তানদের বিশুদ্ধ আকীদাহ (বিশ্বাস) শিক্ষা দাও, এবং তাদের শির্কী বিদআতের গহ্বর থেকে দূরে রাখো। মনে রেখো, যে ভালো কাজের পথের দিকনির্দেশনা দেয়, সে যেন নিজেই সেই কাজটি করেছে। তাওহিদের জন্যই নূহ (আলাইহিসসালাম) নৌকা নিয়ে সাগরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, ইবরাহিম (আলাইহিসসালাম)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, মূসা (আলাইহিসসালাম)-কে ফিরআউন সেনারা তাড়া করেছিল, ঈসা (আলাইহিসসালাম)-কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, এবং মুহাম্মদ ﷺ-কে তাঁর দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, তাঁকে পাথর মারা হয়েছিল। তারপরও আজ যারা কবরের চারপাশে ঘোরে, তাতে বরকত চায়, তারা বলে— “হে ওহাবীরা! তোমরা আমাদের তাওহিদের কথা বলে বিরক্ত করছ!?”

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ كَذَّابُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي»

“কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের কিছু গোত্র মুশরিকদের পথ অনুসরণ করবে এবং মূর্তি পূজা করবে। আর আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদী নবুওয়াতের দাবি করবে; আমি শেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী নেই।”[১]

ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো: “এক ব্যক্তি সাওম রাখে, সালাত পড়ে ও ইতিকাফ করে— এটা কি ভালো, নাকি সে যদি বিদআতিদের বিষয়ে সতর্ক করে?” তিনি বললেন: “যদি সে সাওম রাখে, সালাত পড়ে ও ইতিকাফ করে—তাহলে সেটা তার নিজের জন্য; কিন্তু যদি সে বিদআতিদের বিরুদ্ধে কথা বলে—তাহলে সে সমস্ত মুসলিমদের কল্যাণ করছে, এবং এটি উত্তম।”[২]

তাওহিদ-ই হলো মুসলিম ও মুশরিকের মধ্যে পার্থক্য। কেউ মুসলিম হয়েও শির্ক করে কাফের হতে পারে, আর কেউ কাফের থেকেও ঈমান গ্রহণ করে মুসলিম হতে পারে। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন:

﴿قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ ٣ وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ ٤﴾ [سورة الإخلاص]

“বলুন: তিনি আল্লাহ, এক, তিনি অমুখাপেক্ষী, তিনি জন্ম দেননি ও জন্মগ্রহণও করেননি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।”[৩] এই আয়াতের কি ব্যাখ্যা দরকার?

আর আল্লাহ বলেন:

﴿وَأَنَّ ٱلۡمَسَٰجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدۡعُواْ مَعَ ٱللَّهِ أَحَدٗا ١٨﴾ [الجن: ١٨]

“মসজিদসমূহ বা সাজদার অঙ্গগুলো আল্লাহর জন্য, সুতরাং আল্লাহর সাথে কাউকে আহ্বান কোরো না।”[৪] এটা কি অস্পষ্ট? এটা কি মুসলিমদের জন্য নয়, যারা মসজিদে আসে, নাকি কাফেরদের জন্য, যারা কখনও মসজিদে আসে না?

আল্লাহ বলেছেন:

﴿مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُؤۡتِيَهُ ٱللَّهُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحُكۡمَ وَٱلنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُواْ عِبَادٗا لِّي مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَٰكِن كُونُواْ رَبَّٰنِيِّ‍ۧنَ بِمَا كُنتُمۡ تُعَلِّمُونَ ٱلۡكِتَٰبَ وَبِمَا كُنتُمۡ تَدۡرُسُونَ ٧٩ وَلَا يَأۡمُرَكُمۡ أَن تَتَّخِذُواْ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةَ وَٱلنَّبِيِّ‍ۧنَ أَرۡبَابًاۗ أَيَأۡمُرُكُم بِٱلۡكُفۡرِ بَعۡدَ إِذۡ أَنتُم مُّسۡلِمُونَ ٨٠﴾ [آل عمران: ٧٩-٨٠]

“কোনো মানুষের জন্য উচিত নয় যে আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়ত দিবেন তারপর তিনি মানুষদের বলবেন, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমার ইবাদত বা দাসত্ব করো, বরং তোমরা রব্বানী হও, আর তা হতে পারবে যদি তোমরা কিতাব শিক্ষা দাও ও তা অধ্যয়ন কর। আর তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশও দিবেন না যে তোমরা মালায়িকা ও নবীদেরকে রব্ব বানাও, তোমরা মুসলিম হওয়ার পরে কি তিনি তোমাদেরকে কুফরির নির্দেশ দিবেন?”[৫] এটা কি অস্পষ্ট?

আর আল্লাহ বলেন:

﴿قُل لَّا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ…﴾ [الأنعام: ٥٠]

“বলুন, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডার নেই, আমি গায়েব জানি না।”[৬] এটাও কি অস্পষ্ট?

মুহাম্মদ ﷺ সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, তবুও তিনি নিজের উপকার বা ক্ষতি করতে পারেন না, তাহলে যারা তাঁর চেয়ে অনেক নিচে — তারা কীভাবে পারবে? আল্লাহকে ভয় করো, কারণ তোমরা আল্লাহরই বান্দা।
রাসূল ﷺ বলেছেন:

«بَدَأَ الإِسْلاَمُ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ»

“ইসলাম শুরুতে ছিল অচেনা (গরীব), এবং তা আবার (গরীব) অচেনা হয়ে যাবে — সুতরাং সুখবর সেই অচেনা গরীবদের জন্য।” অর্থাৎ তাদের আকীদা ও আমল মানুষের কাছে অচেনা ঠেকবে।

আর আল্লাহ বলেছেন:

﴿وَإِن يَمۡسَسۡكَ ٱللَّهُ بِضُرّٖ فَلَا كَاشِفَ لَهُۥٓ إِلَّا هُوَ…﴾ [يونس: ١٠٧]

“যদি আল্লাহ আপনাকে কষ্ট দেন, তবে তা দূর করার কেউ নেই তিনি ছাড়া।”[৭] এটা কি অস্পষ্ট?

আল্লাহ আরও বলেন:

﴿قُلۡ أَمَرَ رَبِّي بِٱلۡقِسۡطِۖ وَأَقِيمُواْ وُجُوهَكُمۡ عِندَ كُلِّ مَسۡجِدٖ وَٱدۡعُوهُ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَۚ كَمَا بَدَأَكُمۡ تَعُودُونَ ٢٩ فَرِيقًا هَدَىٰ وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيۡهِمُ ٱلضَّلَٰلَةُۚ إِنَّهُمُ ٱتَّخَذُواْ ٱلشَّيَٰطِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَيَحۡسَبُونَ أَنَّهُم مُّهۡتَدُونَ ٣٠﴾ [الأعراف: ٢٩-٣٠]

“বলুন, ‘আমার রব নির্দেশ দিয়েছেন ন্যায়বিচারের।’ আর তোমরা প্রত্যেক সাজদাহ বা ইবাদতে তোমাদের লক্ষ্য একমাত্র আল্লাহকেই নির্ধারণ কর এবং তাঁরই অনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁকে ডাক। তিনি যেভাবে তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন তোমরা সেভাবে ফিরে আসবে। একদলকে তিনি হিদায়াত করেছেন। আর অপরদল, তাদের উপর পথ ভ্রান্তি নির্ধারিত হয়েছে। নিশ্চয় তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে তাদের অভিভাবক-রুপে গ্রহণ করেছিল এবং মনে করত তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।”[৮]

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো—কেউ যদি শয়তানের পথ অনুসরণ করে, অথচ ভাবে সে সঠিক পথে আছে! সে কখনও ফিরে আসবে না। কিন্তু কেউ যদি ভুল করে জেনে-বুঝে করে, সে একদিন অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করতে পারে।

মুহাম্মদ ﷺ গুহায় ছিলেন, আর বললেন: إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا “নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” অর্থাৎ আরশের উপর থেকেও তিনি সাহায্য করার জন্য আমাদের সাথে আছেন।
ইউনুস (আলাইহিসসালাম) মাছের পেটে বলেছিলেন: لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ “হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আপনি কতই না পবিত্র, আমি ছিলাম জালিমদের একজন।”
ইউসুফ (আলাইহিসসালাম) কারাগারে বলেছিলেন: مَا كَانَ لَنَا أَن نُّشْرِكَ بِاللَّهِ مِن شَيْءٍ “আমাদের কখনোই উচিত নয় আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা।”

আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের সবাইকে সত্যের পথে পরিচালিত করুন।
আল্লাহ বলেন:

﴿قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡ﴾ [آل عمران: ٣١]

“বলুন, তোমরা যদি আল্লহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।”[৯]

আসল ভালোবাসা শুরু হয় রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে অনুসরণ করার মাধ্যমে, তখনই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন।

  1. [১]সুনান আত-তিরমিযি, হাদীস নং ২২১৯।
  2. [২]মাজমু‘ আল-ফাতাওয়া।
  3. [৩]সূরা আল-ইখলাস।
  4. [৪]সূরা আল-জিন্ন, আয়াত নং ১৮।
  5. [৫]আল-ইমরান ৭৯–৮০।
  6. [৬]সূরা আল-আন‘আম, আয়াত নং ৫০।
  7. [৭]সূরা ইউনুস, আয়াত নং ১০৭।
  8. [৮]সূরা আল আরাফ: ২৯-৩০।
  9. [৯]সূরা আলে-ইমরান: ৩১।
Share on