bn বাংলা
বাংলা বাংলা
English English
عربي عربي


+8801575-547999
সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা
Community Welfare Initiative

রাফেযী সম্প্রদায়: তাদের উদ্ভব ও নামকরণের কারণ

রাফেযী ফির্কার উদ্ভব হয় যখন ইয়েমেনের এক ইয়াহূদী ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ইসলাম দাবি করে প্রকাশ্যে আসে। সে আহলুল বাইতের প্রতি ভালোবাসার ভান করেছিল এবং আলী রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য খেলাফতের ওসিয়ত (অধিকার) দাবি করে, এমনকি তাকে আল্লাহর পর্যায়ে উন্নীত করে।

শিয়া বইগুলো নিজেই এ সত্য স্বীকার করেছে:

  • আল-কুম্মী তার আল-মাকালাত ওয়াল-ফিরাক গ্রন্থে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সাবা-ই প্রথম আলীর ইমামত ফরয বলে দাবি করে, তার রাজআত (ফিরে আসা) নিয়ে কথা বলে এবং আবু বকর, উমার, উসমান ও অন্যান্য সাহাবীদের সমালোচনা করে।
  • নওবাখতী তার ফিরাকুশ শিয়া বইতে এবং কাশশি তার রিজালুল কাশশি গ্রন্থে একই কথা উল্লেখ করেছেন।

এরা সবাই রাফিদাদের বড় শাইখ, আর তাদের এ স্বীকারোক্তিই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

কেন তাদের “ইসনা আশারিয়া শিয়া” বলা হয়?

তারা বারো ইমামের অনুসারী হওয়ার দাবিদার। তাদের তালিকা এভাবে সাজানো হয়:

  • আলী ইবন আবু তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু – (আল-মুরতাদা), চতুর্থ খলিফা ও রাসূল ﷺ-এর জামাতা। ৪০ হিজরির ১৭ রমাদ্বানে খারিজি আবদুর রহমান ইবন মূলজিম তাকে শহীদ করে।
  • হাসান ইবন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা – (আল-মুজতাবা)।
  • হুসাইন ইবন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা – (আশ-শাহীদ)।
  • আলী যাইনুল আবিদীন ইবন হুসাইন (৮০–১২২ হি.) – (আস-সাজ্জাদ)।
  • মুহাম্মাদ আল-বাকির ইবন আলী যাইনুল আবিদীন (ত. ১১৪ হি.) – (আল-বাকির)।
  • জাফর আস-সাদিক ইবন মুহাম্মাদ আল-বাকির (ত. ১৪৮ হি.) – (আস-সাদিক)।
  • মূসা আল-কাযিম ইবন জাফর আস-সাদিক (ত. ১৮৩ হি.) – (আল-কাযিম)।
  • আলী আর-রিদা ইবন মূসা আল-কাযিম (ত. ২০৩ হি.) – (আর-রিদা)।
  • মুহাম্মাদ আল-জাওয়াদ ইবন আলী আর-রিদা (১৯৫–২২৬ হি.) – (আত-তাকী)।
  • আলী আল-হাদি ইবন মুহাম্মাদ আল-জাওয়াদ (২১২–২৫৪ হি.) – (আন-নাকী)।
  • হাসান আল-আসকারি ইবন আলী আল-হাদি (২৩২–২৬০ হি.) – (আয-যাকী)। (বস্তুত তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান)।
  • মুহাম্মাদ আল-মাহদী ইবন হাসান আল-আসকারি – (আল-হুজ্জাহ আল-কায়িম আল-মুনতাযার)। শিয়ারা দাবি করে যে, এ নামে হাসান আল-আসকারির একটি ছেলে ছিল। জন্মের পর তার সাহায্যকারী না দেখে রেগে গিয়ে রিদ্বওয়া পাহাড়ের গর্তে (গোপন আস্তানায়) প্রবেশ করেছেন এবং একদিন ফিরে আসবেন। শিয়াদের বিশ্বাস—তিনি ছোট বয়সে হারিয়ে যান (৪ বা ৮ বছর বয়সে বলা হয়)। আহলুস সুন্নাহ অবশ্য তাকে মাহদী খুরাফা (মিথ্যা মাহদী) বলে মনে করেন। বহু গবেষক মনে করেন, এমন কারো অস্তিত্বই ছিল না; এটা শিয়াদের মনগড়া কাহিনী। তাই তাকে ‘মাউহূম’ (কল্পিত) বা “মা’দূম” (অস্তিত্বহীন) বলা হয়।

কেন তাদের ‘রাফেযী’ বলা হলো?

ভাষাগত অর্থে: ‘রাফদ’ মানে হলো—ত্যাগ করা, ছেড়ে দেওয়া।
শরঈ পরিভাষায়: রাফেযীরা হলো এক শিয়া গোষ্ঠী যারা আহলুল বাইতের প্রতি দাবিকৃত ভালোবাসার নামে আবু বকর ও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা এবং অধিকাংশ সাহাবীকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদেরকে কুফরী ফতোয়া দেয় ও গালি দেয়।

  • ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “রাফেযী হলো তারা, যারা রাসূল ﷺ-এর সাহাবীদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকে, তাদেরকে গালি দেয় ও হেয় করে।”
  • আবদুল্লাহ ইবন আহমদ রাহিমাহুল্লাহ তার পিতাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “রাফেযী হলো তারা, যারা আবু বকর ও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে গালি দেয়।”
  • ইমাম আবুল কাসিম আত-তাইমি (ক্বাওয়ামুস সুন্নাহ) বলেন, “তারা হলো, যারা আবু বকর ও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে গালি দেয়, আর যারা তাদের ভালোবাসে তাদেরকেও।”

রাফেযীরা ইসলামের সকল ফির্কার মধ্যে একমাত্র দল, যারা প্রকাশ্যে আবু বকর ও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে গালি দিয়ে থাকে ও লাঞ্ছিত করে।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

আবু বকর ও উমরা রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে রাফেযীরা ঘৃণা করে ও অভিসম্পাত করে, অন্য কোনো ফের্কা তা করেনি।

শিয়াদের নিজস্ব বইতেও এ প্রমাণ আছে। তারা বলে,

যে ব্যক্তি আবু বকর ও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে ভালোবাসে, তাকেই তারা ‘নাসিবি’ বলে।

কেন তাদের নাম ‘রাফেযী’ হলো?

বেশিরভাগ গবেষকের মতে, এ নাম এসেছে যখন তারা যাইদ ইবন আলীর বিরোধিতা করে।
যাইদ ইবন আলী রাহিমাহুল্লাহ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুকে অন্য সাহাবীদের ওপর প্রাধান্য দিতেন, তবে আবু বকর ও উমার রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে ভালোবাসতেন এবং যালিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বৈধ মনে করতেন।

হিশাম ইবন আবদুল মালিকের বিরুদ্ধে ১২১ হিজরিতে কুফায় তার সৈন্যদের সাথে বিদ্রোহ করলে, তার সমর্থকরা আবু বকর ও উআর রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমাকে গালি দেওয়া শুরু করে। যাইদ তাদের এ কাজের বিরোধিতা করেন। তখন তারা তাকে ছেড়ে যায়। যাইদ বললেন, “তোমরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করলে (রাফাদতুমূনি)।”
সেখান থেকে তারা ‘রাফিদা’ বা রাফেযী নামে পরিচিত হয়।

এ বিষয়ে আবুল হাসান আল-আশ‘আরী, ক্বাওয়ামুস সুন্নাহ, ফখরুর রাযী, শাহরাস্তানি ও ইবন তাইমিয়া রাহিমাহুমুল্লাহ সবাই একমত।

অন্যদিকে আল-আশ‘আরী অন্য আরেকটি মত উল্লেখ করেন,

তাদের রাফেযী বলা হয়, কারণ তারা আবু বকর ও উমারের খেলাফত প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আজকের বাস্তবতা

বর্তমান রাফেযীরা এ নাম শুনে রাগ করে এবং বলে এটা বিরোধীরা তাদের দিয়েছে।
যেমন—মুহসিন আল-আমীন বলেছে,

রাফেযী নামটি হলো এক বিদ্বেষমূলক উপাধি, যা তাদের দেওয়া হয় যারা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুকে খেলাফতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়।

তাই তারা নিজেদের ‘শিয়া’ বলে পরিচয় দেয়। যদিও ‘শিয়া’ শব্দের অর্থ সাধারণত—কোনো ব্যক্তি বা দলের অনুসারী। বাস্তবে তারা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুর শিয়া হওয়ার দাবিদার হলেও, আবু বকর ও উমারের খেলাফত প্রত্যাখ্যান করে সত্যকেও প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তাদের প্রকৃত নাম রাফিদা বা রাফেযী—এটাই যথাযথ।

Share on