ইমাম হাফেয আবদুল গনী আল-মাকদেসী
জন্ম ও পরিচয়:
তিনি ৫৪১ হিজরীতে (১১৪৬ খ্রিষ্টাব্দে) ফিলিস্তিনের নাবলুস অঞ্চলের জামাঈল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ণ নাম তাকীউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনী ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদেসী। তিনি বিখ্যাত হাম্বলী ফকীহ ইমাম ইবনে কুদামাহ আল-মাকদেসীর মামাতো ভাই ছিলেন।
শিক্ষা ও ভ্রমণ:
শৈশবে পরিবারসহ দামেস্কে হিজরতের পর তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন এবং উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ৫৬১ হিজরীতে বাগদাদ গমন করেন। সেখানে প্রখ্যাত সুফি ও ফকীহ শায়খ আব্দুল কাদের আল-জীলানীর সান্নিধ্যে চার বছর অবস্থান করে হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি হাদীস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মিশর (ইসকান্দারিয়্যায় হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফীর কাছে) এবং পারস্যের ইসফাহান সফর করেন। তিনি দামেস্কের কাসিউন পর্বতে প্রথম একটি বিখ্যাত মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
মাযহাব ও উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী:
তিনি ফিকহী মাযহাবে হাম্বলী এবং আকিদায় আসারী ছিলেন। তিনি হাদীস ও আসমাউর রিজাল শাস্ত্রে প্রায় ৫৬টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত সর্বাধিক প্রসিদ্ধ দুটি গ্রন্থ হলো আহকাম হাদীসের সংকলন ‘উমদাতুল আহকাম’ এবং বর্ণনাকারীদের জীবনীবিষয়ক ‘আল-কামাল ফি আসমাইর রিজাল’।
জীবনের পরীক্ষা (মিহনাহ):
নিজ আকিদা ও মতবাদে দৃঢ়তা এবং স্পষ্টভাষী আলোচনার কারণে তিনি জীবনের নানা সময়ে প্রতিপক্ষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন। এর ফলে ইসফাহান, মোসুল, দামেস্ক এবং মিশরে তাঁকে বারবার বিরোধিতা, বন্দীত্ব ও দেশত্যাগের মতো পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়।
মৃত্যু:
৬০০ হিজরীর ২৩ বা ২৫ রবিউল আউয়াল (১২০৩ খ্রিষ্টাব্দে) ৫৯ বছর বয়সে মিশরের কায়রোতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং ক্বারাফায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।
