প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
তিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারী‘আহ অনুষদে ১৯৮৮ সাল হতে ২০০২ সাল পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছেন। মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত তিনি-ই প্রথম বাংলাদেশী। তিনি মদীনার প্রখ্যাত শাইখদের কাছ থেকে সরাসরি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং শাইখ ‘আব্দুল ‘আযীয বিন বায, শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালিহ ইবন উসাইমীন ও শাইখ সালিহ আল-ফাওযানসহ বিখ্যাত শাইখদের শিক্ষামূলক আলোচনা, লেকচার, হালাকা ও দারসে তিনি সরাসরি বসেছেন, তাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। পাশাপাশি শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ও তাঁর সুযোগ্য দুই ছাত্র ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম ও ইমাম ইবনু কাসীরের লেখা জ্ঞানসমৃদ্ধ রচনাবলি তিনি ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করেছেন এবং তা থেকে মণি-মুক্তা আহরণ করে আলোকিত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। এখানে তাঁর তত্ত্বাবধানে বহু গবেষক এম. ফিল. ও পিএইচডি করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারের কাজে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি নানামুখী গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন।
ইসলামী জ্ঞানকে সবার কাছে পৌঁছানোর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন “তাইবাহ একাডেমি”, “কুল্লিয়াতুল কুরআন ওয়াদ-দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ” ও “ইমাম বুখারী ট্রাস্ট” যা দেশে ও দেশের বাহিরে হাজারো মুসলিমের নিকট ইসলামের আদর্শ ও শিক্ষাকে পৌঁছে দিচ্ছে। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তার এ প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং এতে বারাকাহ দিন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী এর প্রবন্ধসমূহ
সাহাবীগণের মর্যাদা
‘সাহাবী’ দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? তাদের ব্যাপারে আমাদের কী আকীদা পোষণ করা উচিত? আরবীতে ‘সাহাবাহ’ صحابة শব্দটি ‘সাহাবী’ صحابي শব্দের বহুবচন। সাহাবী ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি মুমিন থাকা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঈমানের ওপর…
সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ
এক. সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের একটি মূলনীতি হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাদের ব্যাপারে তাদের অন্তর এবং বাক-যন্ত্র পাক-পবিত্র ও সংযত থাকবে- যেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অনুরূপ গুণসম্পন্ন বলে বর্ণনা করেছে, ﴿وَٱلَّذِينَ جَآءُو مِنۢ بَعۡدِهِمۡ…
কীভাবে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসব?
মুমিন মাত্রই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত পোষণ করে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত রাখা ঈমানের এক অপরিহার্য অংশ। পরম শ্রদ্ধা, গভীর ভালোবাসা আর বিপুল মমতার এক চমৎকার সংমিশ্রণের সমন্বিত রূপ হচ্ছে ‘মহব্বত’ নামের এ আরবী অভিব্যক্তিটি।…
পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারার নাম, ফযিলত ও এখানে অবস্থানের আদবসমূহ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারাকে বলা হয় দ্বিতীয় হারাম। মুসলিম হৃদয়ে এ নগরীটির প্রতি রয়েছে অপরিসীম শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও মর্যাদা। কেননা এটি ছিল প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতভূমি। তিনি তাঁর জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ শেষ দশ বছর…
আল্লাহর শরী‘আতের পরিবর্তে অন্য আইন মোতাবেক ফয়সালা করা
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান রাখা ও তাঁর ইবাদত করার দাবী হলো তাঁর হুকুম মেনে নেওয়া, তাঁর শরী‘আতের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং কথাবার্তা, মৌলিক নীতিমালা, ঝগড়া-ঝাটি ও জান-মালসহ সকল অধিকারের ক্ষেত্রে মতানৈক্যের সৃষ্টি হলে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাতের দিকে প্রত্যাবর্তন…
আল্লাহর শরী‘আত বাদ দিয়ে যারা অন্য আইন অনুযায়ী হুকুম প্রদান করে তাদের বিধান
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللّٰهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ﴾ [المائدة: ٤٤] “আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী যারা হুকুম দেয় না, তারাই কাফির।” [সূরা আল-মায়েদা: ৪৪] এ আয়াতে কারীমায় স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলার অবতারিত শরী‘আত ব্যতীত…
আইন রচনা এবং হালাল-হারাম নির্ধারণের অধিকার দাবী করা
বান্দার ইবাদাত, মু‘আমালাত ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে আইন ও বিধান রচনার অধিকার একমাত্র আল্লাহর- যিনি মানুষের প্রভু ও সৃষ্টি জগতের সৃষ্টিকর্তা। এছাড়া বিবাদ-বিসম্বাদ মিমাংসাকারী ও ঝগড়া-ঝাটি নিষ্পত্তিকারী আইন প্রণয়নের অধিকারও একমাত্র তাঁরই। আল্লাহ বলেন, ﴿أَلَا لَهُ ٱلۡخَلۡقُ وَٱلۡأَمۡرُۗ تَبَارَكَ ٱللَّهُ…
আহলে বাইতের ফযীলত, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
আহলে বাইত বলতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই পরিবার-পরিজন বুঝানো উদ্দেশ্য, যাদের ওপর সদকা হারাম। তারা হলেন আলী, জাফর এবং আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম-এর পরিবার ও সন্তান-সন্ততি এবং বনু হারেস ইবন আব্দুল মুত্তালিব এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল পবিত্রা…
ঈদের পর করণীয়
প্রিয় পাঠক! আমরা রমাদ্বানের সমাপ্তি নিয়ে কয়েকটি ধাপে একটু চিন্তা করি, হয়তো আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এর থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করবেন। প্রথম ধাপ: আমরা রমাদ্বান থেকে কী উপার্জন করলাম? আমরা কি রমাদ্বানের সুশোভিত দিন ও আনন্দমুখর রাতগুলোকে বিদায় জানাচ্ছি?!…