সালেহ ইবন ফাওযান আল-ফাওযান
সালিহ আল-ফাওযান (জন্মঃ ১৯৩৩ খ্রিঃ) একজন ইসলামী ধর্মতত্ত্ববিদ এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য। তার পদবি আল-ফাওযান নামেও বর্ণান্তরিত হয়ে থাকে। এছাড়া তিনি সালেহ ইবন ফাওজান ইবন আব্দুল্লাহ, সালেহ ইবন ফাওজান আল-ফাওজান, সালিহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ফাওজান, সালেহ বিন ফাউজান আল-ফাওজান ও সালেহ আল-ফাওজান নামেও পরিচিত।
তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিকটস্থ মসজিদের ইমামের কাছ থেকে কুরআন শিক্ষা ও মৌলিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে। এরপর তিনি আশ-শামসিয়্যাহর একটি সরকারি বিদ্যালয়ে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর সেখানে অধ্যয়ন করেন। ১৯৫০ সালে তিনি বুরায়দাহ-তে অবস্থিত ফায়সালিয়্যাহ বিদ্যালয় থেকে সেখানকার পড়াশোনা সমাপ্ত করেন এবং শিক্ষক হিসেবে সেই বিদ্যালয়ে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৫২ সালে বুরায়দাহর এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট চালু হবার পর শাইখ ফাওজান সেখানে ভর্তি হন এবং ১৯৫৬ সালে গ্রাজুয়েট হন। তিনি ১৯৬০ সালে ইমাম রিয়াদের মুহাম্মদ ইবন সউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে শারিয়াহ ফ্যাকাল্টি থেকে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর ফিকাহ-এর উপর মাস্টার্স ও ডক্টরেট করেন।
ডক্টরেট সম্পন্ন করার পর তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট-এর শারিয়াহ ফ্যাকাল্টিতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে তিনি উচ্চতর শিক্ষা বিভাগ ও উসুল আদ-দ্বীন ফ্যাকাল্টিতে স্থানাতরিত হন। তিনি পরবর্তীতে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পদ থেকে অব্যাহতির পরে পুনরায় তিনি অধ্যাপনায় ফিরে যান।
তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংস্থা “ঊর্ধ্বতন উলামা পরিষদ”-এর একজন সদস্য ছিলেন যা ধর্মীয় ব্যাপারে বাদশাহকে উপদেশ প্রদান করে থাকে। তিনি বর্তমানে ইসলামী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদান স্থায়ী কমিটির সদস্য, যা “ঊর্ধ্বতন উলামা পরিষদ”-এর একটি কমিটি। এই পরিষদটি ঊর্ধ্বতন ধর্মতত্ত্ববিদের দ্বারা ইসলামী আইন বা ফিকাহ-এর বিষয় ও বিধিবিধান এবং গবেষণা পত্র প্রণয়ন করে থাকে।
সালেহ ইবন ফাওযান আল-ফাওযান এর প্রবন্ধসমূহ
নিফাকের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
নিফাকের সংজ্ঞা: আভিধানিকভাবে নিফাক শব্দটি نافق ক্রিয়ার মাসদার বা মূলধাতু। বলা হয়- نَافَقَ، يُنَافِقُ، نِفَاقًا وَمُنَافَقَةً শব্দটি النَافِقَاء থেকে গৃহীত যার অর্থ ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর গর্তের অনেকগুলো মুখের একটি মুখ। তাকে কোনো এক মুখ দিয়ে খোঁজা হলে অন্য মুখ দিয়ে…
শির্কের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
শির্কের সংজ্ঞা রব ও ইলাহ হিসেবে আল্লাহর সাথে আর কাউকে শরীক সাব্যস্ত করার নামই শির্ক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উলুহিয়্যাত তথা ইলাহ হিসেবে আল্লাহর সাথে শরীক করা হয়। যেমন, আল্লাহর সাথে অন্য কারো নিকট দো‘আ করা কিংবা বিভিন্ন প্রকার ইবাদাত যেমন যবেহ,…
কুফুরীর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
কুফুরীর সংজ্ঞা কুফুরীর আভিধানিক অর্থ আবৃত করা ও গোপন করা। আর শরী‘আতের পরিভাষায় ঈমানের বিপরীত অবস্থানকে কুফুরী বলা হয়। কেননা কুফুরী হচ্ছে আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান না রাখা, চাই তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক কিংবা না হোক; বরং তাদের…
দীনের প্রতি বিদ্রূপ ও তার পবিত্রতাহানি করার হুকুম
দীনের প্রতি বিদ্রূপকারী মুরতাদ হয়ে যায় এবং পুরোপুরি দীন ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿قُلۡ أَبِٱللَّهِ وَءَايَٰتِهِۦ وَرَسُولِهِۦ كُنتُمۡ تَسۡتَهۡزِءُونَ ٦٥ لَا تَعۡتَذِرُواْ قَدۡ كَفَرۡتُم بَعۡدَ إِيمَٰنِكُمۡۚ﴾ [التوبة: ٦٥، ٦٦] “বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর…
জাদু, ভাগ্য গণনা ও দৈব কর্ম
এসব কিছুই শয়তানী কাজ-কর্ম এবং হারাম, যা আকীদায় ত্রুটি সৃষ্টি করে কিংবা আকীদা নষ্ট করে দেয়। কেননা শির্কী কাজ-কর্ম ছাড়া এগুলো অর্জন করা যায় না। ১. জাদু: জাদু এমন এক বস্তুকে বলা হয় যার উপকরণ নিতান্ত গোপন ও সূক্ষ্ম হয়ে…
জাহেলিয়্যাত, ফাসেকী, ভ্রষ্টতা ও রিদ্দাত: অর্থ, প্রকারভেদ ও আহকাম
এক. জাহেলিয়্যাত: আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও দীনের আইন-কানুন সম্পর্কে অজ্ঞতা, বংশ নিয়ে গর্ব-অহংকার ও বড়াই প্রভৃতি যে সকল অবস্থার উপর আরবের লোকেরা ইসলাম পূর্ব যুগে ব্যাপৃত ছিল, সে সকল অবস্থাকেই জাহেলিয়্যাত নামে অভিহিত করা হয়। জাহেলিয়্যাত ‘জাহল’ শব্দের প্রতি সম্পর্কিত,…
মাযার ও কবরের উদ্দেশ্যে কুরবানী, মান্নত, হাদিয়া ও এগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শির্কের দিকে নিয়ে যাওয়ার সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। আর এ সকল পথ থেকে উম্মাতকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। এসবের মধ্যে প্রথম হলো কবরের বিষয়টি। তাই তিনি কবর যিয়ারতের এমন নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, যাতে লোকজন কবরপূজা ও…
ভাস্কর্য, প্রতিমা ও স্মৃতিসৌধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিধান
বিশিষ্ট মূর্তি আর স্মৃতিসৌধ (যার আরবী প্রতিশব্দ نصب) নিশানা ও পাথর। মুশরিকগণ তাদের কোনো নেতা বা সম্মানিত ব্যক্তির স্মৃতিচারণায় এসব স্মৃতিসৌধের কাছে কুরবানী করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রাণীর ছবি বানাতে নিষেধ করেছেন, বিশেষ করে মানুষের মধ্যে যারা সম্মানিত,…
বিদ‘আতের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও আহকাম
প্রথমত: বিদ‘আতের সংজ্ঞা আভিধানিকভাবে বিদ‘আত শব্দটি البدع শব্দ হতে গৃহীত- যার অর্থ হলো পূর্ববর্তী কোনো উদাহরণ ছাড়াই কোনো কিছু সৃষ্টি বা আবিষ্কার করা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿بَدِيعُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ﴾ [البقرة: ١١٧] “তিনিই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিকারী।”[১] অর্থাৎ পূর্ববর্তী কোনো…
সাহাবীগণের মর্যাদা
‘সাহাবী’ দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? তাদের ব্যাপারে আমাদের কী আকীদা পোষণ করা উচিত? আরবীতে ‘সাহাবাহ’ صحابة শব্দটি ‘সাহাবী’ صحابي শব্দের বহুবচন। সাহাবী ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি মুমিন থাকা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঈমানের ওপর…
সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ
এক. সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের একটি মূলনীতি হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাদের ব্যাপারে তাদের অন্তর এবং বাক-যন্ত্র পাক-পবিত্র ও সংযত থাকবে- যেমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অনুরূপ গুণসম্পন্ন বলে বর্ণনা করেছে, ﴿وَٱلَّذِينَ جَآءُو مِنۢ بَعۡدِهِمۡ…
আল্লাহর শরী‘আতের পরিবর্তে অন্য আইন মোতাবেক ফয়সালা করা
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান রাখা ও তাঁর ইবাদত করার দাবী হলো তাঁর হুকুম মেনে নেওয়া, তাঁর শরী‘আতের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং কথাবার্তা, মৌলিক নীতিমালা, ঝগড়া-ঝাটি ও জান-মালসহ সকল অধিকারের ক্ষেত্রে মতানৈক্যের সৃষ্টি হলে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাতের দিকে প্রত্যাবর্তন…