bn বাংলা
বাংলা বাংলা
English English
عربي عربي


+8801575-547999
সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা
Community Welfare Initiative

সহবাসের সময় মনী (বীর্য) নির্গত না হলেও কি গোসল ওয়াজিব?

প্রশ্ন: সহবাসের পর যদি মনী নির্গত না হয়, তবে কি গোসল করা ওয়াজিব? নাকি মনী নির্গত ব্যতীত গোসল ওয়াজিব হয় না?

উত্তর: আল-হামদুলিল্লাহ।
এ ব্যাপারে সকল আলেম একমত যে, সহবাসের ফলে গোসল ওয়াজিব হয়।[১]

স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে, মনী নির্গত না হলেও গোসল ওয়াজিব হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ সিদ্ধান্ত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الأَرْبَعِ، ثُمَّ جَهَدَهَا فَقَدْ وَجَبَ الغَسْلُ»

“যদি পুরুষ তার চার শাখার (হাত-পা) উপর বসে যায়, অতঃপর তাতে সে প্রচেষ্টা চালায়, তবেই তার উপর গোসল ওয়াজিব হলো।”[২]

মুসলিমের বর্ণনা অতিরিক্ত রয়েছে, وَإِنْ لَمْ يُنْزِلْ “যদিও মনী নির্গত না হয়”।[৩]

ইমাম নববী রহ. মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: “হাদীসের অর্থ: মনী নির্গত হওয়া বা না হওয়ার ওপর গোসল ওয়াজিব হওয়া নির্ভরশীল নয়; বরং যখনই পুরুষের লিঙ্গ নারীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করে, তখনই নারী-পুরুষ উভয়ের ওপর গোসল ওয়াজিব হয়। বর্তমান যুগে এতে কোনো মতবিরোধ নেই, তবে এক সময় কতক সাহাবী ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে ইখতিলাফ ছিল, অতঃপর আমাদের উল্লিখিত সিদ্ধান্তের ওপর তাদের মাঝেও মতৈক্য সৃষ্টি হয়।”

শাইখ ইবন উসাইমীন রহ. বলেছেন, ‘গোসল ওয়াজিব হওযার ব্যাপারে এ দলীল স্পষ্ট, যদিও মনী নির্গত না হয়। এ বিষয়টি অনেকের কাছে অস্পষ্ট, তুমি অনেক স্বামী-স্ত্রীকে দেখবে, তাদের থেকে সহবাস কর্ম সম্পাদন হওয়ার পরও তারা গোসল করে না। বিশেষ করে, যদি তারা ছোট হয় এবং এর শিক্ষা না পেয়ে থাকে। তাদের এ ভ্রান্তি এ ধারণা থেকে সৃষ্ট যে, মনী নির্গত ব্যতীত গোসল ওয়াজিব হয় না, অথচ এটা ভুল।”[৪]

ফতোয়া লাজনায়ে দায়েমাতে রয়েছে: “মুসলিমের ওপর যেসব কারণে গোসল ওয়াজিব হয়: ঘুমন্ত অবস্থায় মনী বের হওয়া। স্বামীর সুপারি স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করা, যদিও তাতে মনি নির্গত না হয়। সহবাস ব্যতীত জাগ্রত অবস্থায় উত্তেজনাসহ মনি নির্গত হওয়া এবং নারীর হায়েস ও নিফাস, যখন তাদের রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে, তখন তাদের ওপর গোসল হবে।”[৫]

সূত্র: ইসলাম কিউ এ

  1. [১]আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়াহ: (৩১/১৯৮)।
  2. [২]সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯১।
  3. [৩]সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৫।
  4. [৪]আশ-শারহুল মুমতি: (১/২২৩)।
  5. [৫]ফাতওয়া লাজনায়ে দায়েমা: (৫/৩১৪)।
Share on