bn বাংলা
বাংলা বাংলা
English English
عربي عربي


+8801575-547999
সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা
Community Welfare Initiative
[১:৬] সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত নং ৬
Share on
ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ ٦
আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন(১)

(১) স্নেহ ও করুণা এবং কল্যাণ কামনাসহ কাউকে মঙ্গলময় পথ দেখিয়ে দেয়া ও মঞ্জিলে পৌঁছিয়ে দেয়াকে আরবী পরিভাষায় ‘হিদায়াত’ বলে। ‘হিদায়াত’ শব্দটির দু’টি অর্থ। একটি পথপ্রদর্শন করা, আর দ্বিতীয়টি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছিয়ে দেয়া। যেখানে এ শব্দের পর দু’টি Object থাকবে إلى থাকবে না, সেখানে এর অর্থ হবে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছিয়ে দেয়া। আর যেখানে এ শব্দের পর إلى শব্দ আসবে, সেখানে অর্থ হবে পথপ্রদর্শন। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেছেন, ﴿إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ﴾ “নিশ্চয় আপনি লক্ষ্যস্থলে-মঞ্জিলে-পৌঁছিয়ে দিতে পারবেন না যাকে আপনি পৌঁছাতে চাইবেন। বরং আল্লাহ্ই লক্ষ্যস্থলে পৌঁছিয়ে দেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন।” [সূরা আল-কাসাস: ৫৬] এ আয়াতে হিদায়াত শব্দের পর إلى ব্যবহৃত হয়নি বলে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছিয়ে দেয়া অর্থ হয়েছে এবং তা করা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধ্যায়ত্ত নয় বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে পথপ্রদর্শন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধ্যায়ত্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ﴿وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ﴾ “হে নবী! আর আপনি অবশ্যই সরল সঠিক দৃঢ় ঋজু পথপ্রদর্শন করেন।” [সূরা আশ-শূরা: ৫২]  কিন্তু লক্ষ্যস্থলে পৌঁছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট। তাই তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন, ﴿وَلَهَدَيۡنَٰهُمۡ صِرَٰطٗا مُّسۡتَقِيمٗا﴾ “আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে সরল সোজা সুদৃঢ় পথে পৌঁছিয়ে দিতাম।” [সূরা আন-নিসা: ৬৮] সূরা আল-ফাতিহা’র আলোচ্য আয়াতে হিদায়াত শব্দের পর إلى শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি। ফলে এর অর্থ হবে সোজা সুদৃঢ় পথে মঞ্জিলের দিকে চালনা করা। অর্থাৎ যেখানে বান্দাহ্ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে শুধু এতটুকু বলে না যে, হে আল্লাহ্! আপনি আমাদেরকে সোজা সুদৃঢ় পথের সন্ধান দিন। বরং বলে, ‘হে আল্লাহ্, আপনি আমাদেরকে সরল সুদৃঢ় পথে চলার তাওফীক দিয়ে মঞ্জিলে পৌঁছিয়ে দিন। কেননা শুধু পথের সন্ধান পেলেই যে সে পথ পাওয়া ও তাতে চলে মঞ্জিলে পৌঁছা সম্ভবপর হবে তা নিশ্চিত নয়।’
কিন্তু ‘সিরাতে মুস্তাকীম’ কী? সিরাত শব্দের অর্থ হচ্ছে, রাস্তা বা পথ। আর মুস্তাকীম হচ্ছে, সরল সোজা। সে হিসেবে সিরাতে মুস্তাকীম হচ্ছে এমন পথ, যা একেবারে সোজা ও ঋজু, প্রশস্ত ও সুগম; যা পথিককে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছিয়ে দেয়; যে পথ দিয়ে লক্ষ্যস্থল অতি নিকটবর্তী এবং মঞ্জিলে মাকসুদে পৌঁছার জন্য যা একমাত্র পথ, যে পথ ছাড়া লক্ষ্যে পৌঁছার অন্য কোনো পথই হতে পারে না। আল্লাহ্ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ্ আমারও রব্ব্ তোমাদেরও রব্ব্, অতএব একমাত্র তাঁরই দাস হয়ে থাক। এটাই হচ্ছে সিরাতুম মুস্তাকীম-সঠিক ও সুদৃঢ় ঋজু পথ।” [সূরা মারইয়াম: ৩৬] অর্থাৎ আল্লাহকে রব্ব্ স্বীকার করে ও কেবল তাঁরই বান্দাহ হয়ে জীবন-যাপন করলেই সিরাতুম মুস্তাকীম অনুসরণ করা হবে। অন্যত্র ইসলামের জরুরী বিধি-বিধান বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আর এটাই আমার সঠিক দৃঢ় পথ। অতএব, তোমরা এই পথ অনুসরণ করে চল। এছাড়া আরও যত পথ আছে, তার একটিতেও পা দিও না। কেননা তা করলে সে পথগুলো তোমাদেরকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করে দিবে-ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন এ উদ্দেশ্যে, যেন তোমরা ধ্বংসের পথ থেকে আত্মরক্ষা করতে পার।” [সূরা আল-আন‘আম: ১৫৩] একমাত্র আল্লাহর নিকট থেকে যে পথ ও বিধি-বিধান পাওয়া যাবে, তাই মানুষের জন্য সঠিক পথ। আল্লাহ্ বলেন, “প্রকৃত সত্য-সঠিক-ঋজু-সরল পথপ্রদর্শন করার দায়িত্ব আল্লাহর উপর, যদিও আরও অনেক বাঁকা পথও রয়েছে। আর আল্লাহ্ চাইলে তিনি সব মানুষকেই হিদায়াতের পথে পরিচালিত করতেন।” [সূরা আন-নাহল: ৯]
সিরাতে মুস্তাকীমের তাফসীর কোনো কোনো মুফাসসির করেছেন, ইসলাম। আবার কারও কারও মতে, কুরআন। [আত-তাফসীরুস সহীহ] বস্তুতঃ আল্লাহর প্রদত্ত বিশ্বজনীন দীনের অন্তর্নিহিত প্রকৃত রূপ ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’ শব্দ হতে ফুটে উঠেছে। আল্লাহ্ তা‘আলার দাসত্ব কবুল করে তাঁরই বিধান অনুসারে জীবন-যাপন করার পথই হচ্ছে ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’ এবং একমাত্র এই পথে চলার ফলেই মানুষ আল্লাহর নি‘আমত ও সন্তোষ লাভ করতে পারে। সে একমাত্র পথই মানব জীবনের প্রকৃত ও চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য একান্ত অপরিহার্য। তাই সে একমাত্র পথে চলার তাওফীক প্রার্থনা করার শিক্ষা দেয়া হয়েছে এই আয়াতটিতে।
কিন্তু আল্লাহর নিকট হতে এই পথ কিরূপে পাওয়া যেতে পারে? সে পথ ও পন্থা নির্দেশ করতে গিয়ে আল্লাহ এর তিনটি সুস্পষ্ট পরিচয় উল্লেখ করেছেন: ১. এই জীবন কীভাবে যাপন করতে হবে তা তাদের নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে, যারা উক্ত বিধান অনুযায়ী জীবন-যাপন করে আল্লাহর নিকট হতে নি‘আমত ও অসীম অনুগ্রহ লাভ করেছে। ২. এই পথের পথিকদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হয়নি, অভিশপ্তও তারা নয়। ৩. তারা পথভ্রান্ত লক্ষ্যভ্রষ্টও নয়। পরবর্তী আয়াতসমূহে এ কথা কয়টির বিস্তারিত আলোচনা আসছে।

— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
আয়াত ৬/৭