bn বাংলা
বাংলা বাংলা
English English
عربي عربي


+8801575-547999
সকাল ৯টা হতে রাত ১০টা
Community Welfare Initiative

সূরা: [২] আল-বাকারাহ | Al-Baqarah | سورة البقرة

নাযিলের স্থান: মদীনা আয়াত সংখ্যা: ২৮৬

সূরা আল-বাকারাহ্‌’র গুরুত্ব ও ফযীলত:

  1. সূরাটি সবচেয়ে বড় সূরা।
  2. সূরাটি সবচেয়ে বেশি আহকাম বা বিধি-বিধান সমৃদ্ধ। [ইবন কাসীর]
  3. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সূরা পাঠ করার বিভিন্ন ফযীলত বর্ণনা করেছেন:

    • আবূ উমামাহ্‌ আল-বাহেলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর। কেননা কিয়ামতের দিন এই কুরআন তোমাদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দু’টি পুষ্প সূরা আল-বাকারাহ্‌ ও সূরা আলে ইমরান তিলাওয়াত কর। কেননা কিয়ামতের দিন এ দু’টি সূরা এমনভাবে আসবে যেন এ দু’টি হচ্ছে দু’খণ্ড মেঘমালা অথবা দু’টুকরো কালো ছায়া অথবা দু’ঝাঁক উড়ন্ত পাখি। এ দু’টি সূরা যারা তিলাওয়াত করবে তাদের থেকে (জাহান্নামের ‘আযাবকে) প্রতিরোধ করবে। তোমরা সূরা আল-বাকারাহ্‌ তিলাওয়াত কর। কেননা এর নিয়মিত তিলাওয়াত হচ্ছে বারাকাহ্‌ বা সমৃদ্ধি এবং এর তিলাওয়াত বর্জন হচ্ছে আফসোসের কারণ। আর জাদুকররা এর উপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।” [মুসলিম ৮০৪]
    • অপর হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সূরা আল-বাকারাহ্‌ পাঠ কর। কেননা এর পাঠে বরকত লাভ হয় এবং পাঠ না করা অনুতাপ ও দুর্ভাগ্যের কারণ। যে ব্যক্তি এ সূরা পাঠ করে তার উপর কোনো আহলে বাতিল তথা জাদুকরের জাদু কখনও প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।” [মুসনাদে আহমাদ ৫/২৪৯]
    • রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে কবর বানিও না। নিশ্চয় শয়তান ঐ ঘর থেকে পালিয়ে যায় যে ঘরে সূরা আল-বাকারাহ্‌ পাঠ করা হয়।” [মুসলিম ৭৮০] অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে ঘরে সূরা আল-বাকারাহ্‌ পড়া হয় সেখানে শয়তান প্রবেশ করে না।’ [মুসনাদে আহমাদ ২/২৮৪]
    • রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই উচ্চ স্তম্ভ রয়েছে, কুরআনের সুউচ্চ শৃঙ্গ হলো সূরা আল-বাকারাহ্‌।’ [তিরমিযী ২৮৭৮, মুস্তাদরাকে হাকিম ২/২৫৯]
  4. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন যুদ্ধের দিন সাহাবায়ে কেরামকে ডাকার সময় বলেছিলেন, ‘হে সূরা আল-বাকারাহ্‌’র বাহক (জ্ঞানসম্পন্ন) লোকেরা।’ [মুসনাদে আহমাদ ১/২১৮]
  5. সূরা আল-বাকারাহ্‌ তিলাওয়াত করলে সেখানে ফিরিশতাগণ আলোকবর্তিকার মতো অবতরণ করে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন সহীহ্‌ হাদীসে বর্ণনা এসেছে। [বুখারী ৫০১৮, মুসলিম ৭৯৬]
  6. যে সকল সাহাবায়ে কেরাম সূরা আল-বাকারাহ্‌ জানতেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নেতৃত্বের যোগ্যতাসম্পন্ন মনে করতেন এবং তাদেরকে যুদ্ধে আমীর বানাতেন। [তিরমিযী ২৮৭৬; সহীহ ইবন খুযাইমাহ ৩/৫, হাদীস নং ১৫০৯, ৪/১৪০, হাদীস নং ২৫৪০; মুস্তাদরাকে হাকিম ১/৬১১, হাদীস নং ১৬২২]
  7. অনুরূপভাবে যারা সূরা আল-বাকারাহ্‌ এবং সূরা আলে ইমরান জানতেন সাহাবায়ে কেরামের নিকট তাদের মর্যাদা ছিল অনেক বেশি। [মুসনাদে আহমাদ ৩/১২০, ১২১]
  8. সর্বোপরি এ সূরাতে আল্লাহ্‌র “ইসমে ‘আযম” রয়েছে যার দ্বারা দো‘আ করলে আল্লাহ্‌ সাড়া দেন। এ সূরায় এমন একটি আয়াত রয়েছে যা কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত। এ আয়াতটি হচ্ছে আয়াতুল কুরসী, যাতে মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলার নাম ও গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে।
[২:৭১] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭১
Share on
قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٞ لَّا ذَلُولٞ تُثِيرُ ٱلۡأَرۡضَ وَلَا تَسۡقِي ٱلۡحَرۡثَ مُسَلَّمَةٞ لَّا شِيَةَ فِيهَاۚ قَالُواْ ٱلۡـَٰٔنَ جِئۡتَ بِٱلۡحَقِّۚ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُواْ يَفۡعَلُونَ ٧١
মূসা বললেন, ‘তিনি বলছেন, সেটা এমন এক গাভী যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি, সুস্থ ও নিখুঁত’। তারা বলল, ‘এখন তুমি সত্য নিয়ে এসেছ’। অবশেষে তারা সেটাকে যবেহ্‌ করল, যদিও তারা তা করতে প্রস্তুত ছিল না।— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৭২] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭২
Share on
وَإِذۡ قَتَلۡتُمۡ نَفۡسٗا فَٱدَّٰرَٰٔتُمۡ فِيهَاۖ وَٱللّٰهُ مُخۡرِجٞ مَّا كُنتُمۡ تَكۡتُمُونَ ٧٢
আর স্মরণ কর, যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে তারপর একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করছিলে, আর তোমরা যা গোপন করেছিলে আল্লাহ্‌ তা ব্যক্তকারী।— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৭৩] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭৩
Share on
فَقُلۡنَا ٱضۡرِبُوهُ بِبَعۡضِهَاۚ كَذَٰلِكَ يُحۡيِ ٱللّٰهُ ٱلۡمَوۡتَىٰ وَيُرِيكُمۡ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ ٧٣
অতঃপর আমরা বললাম, ‘এর কোনো অংশ দিয়ে তাকে আঘাত কর’। এমনিভাবে আল্লাহ্‌ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে দেখিয়ে থাকেন তাঁর নিদর্শন, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার(১)।— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৭৪] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭৪
Share on
ثُمَّ قَسَتۡ قُلُوبُكُم مِّنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَ فَهِيَ كَٱلۡحِجَارَةِ أَوۡ أَشَدُّ قَسۡوَةٗۚ وَإِنَّ مِنَ ٱلۡحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنۡهُ ٱلۡأَنۡهَٰرُۚ وَإِنَّ مِنۡهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخۡرُجُ مِنۡهُ ٱلۡمَآءُۚ وَإِنَّ مِنۡهَا لَمَا يَهۡبِطُ مِنۡ خَشۡيَةِ ٱللّٰهِۗ وَمَا ٱللّٰهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ ٧٤
এরপরও তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল, যেন পাথর কিংবা তার চেয়েও কঠিন। অথচ কোনো কোনো পাথর তো এমন যা থেকে নদী-নালা প্রবাহিত হয়, আর কিছু এরূপ যে, বিদীর্ণ হওয়ার পর তা হতে পানি নির্গত হয়, আবার কিছু এমন যা আল্লাহ্‌র ভয়ে ধ্বসে পড়ে(১), আর তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ সে সম্পর্কে গাফিল নন।— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৭৫] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭৫
Share on
۞أَفَتَطۡمَعُونَ أَن يُؤۡمِنُواْ لَكُمۡ وَقَدۡ كَانَ فَرِيقٞ مِّنۡهُمۡ يَسۡمَعُونَ كَلَٰمَ ٱللّٰهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُۥ مِنۢ بَعۡدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ ٧٥
তোমরা কি এ আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? অথচ তাদের একদল আল্লাহ্‌র বাণী শ্রবণ করে, তারপর তারা তা অনুধাবন করার পর বিকৃত করে, অথচ তারা জানে(১)।— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৭৬] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭৬
Share on
وَإِذَا لَقُواْ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قَالُوٓاْ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعۡضُهُمۡ إِلَىٰ بَعۡضٖ قَالُوٓاْ أَتُحَدِّثُونَهُم بِمَا فَتَحَ ٱللّٰهُ عَلَيۡكُمۡ لِيُحَآجُّوكُم بِهِۦ عِندَ رَبِّكُمۡۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ ٧٦
আর তারা যখন মুমিনদের সাথে সাক্ষাত করে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আবার যখন তারা গোপনে একে অন্যের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, তোমরা কি তাদেরকে তা বলে দাও যা আল্লাহ্‌ তোমাদের কাছে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন(১); যাতে তারা এর মাধ্যমে তোমাদের রবের নিকট তোমাদের বিরুদ্ধে দলীল পেশ করবে? তবে তোমরা কি বুঝ না(২)?’— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৭৭] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭৭
Share on
أَوَ لَا يَعۡلَمُونَ أَنَّ ٱللّٰهَ يَعۡلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعۡلِنُونَ ٧٧
তারা কি জানে না যে, তারা যা গোপন রাখে এবং যা ব্যক্ত করে, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা জানেন?— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৭৮] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭৮
Share on
وَمِنۡهُمۡ أُمِّيُّونَ لَا يَعۡلَمُونَ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّآ أَمَانِيَّ وَإِنۡ هُمۡ إِلَّا يَظُنُّونَ ٧٨
আর তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে যারা মিথ্যা আশা(১) ছাড়া কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না, তারা শুধু অমূলক ধারণা পোষণ করে(২)।— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৭৯] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৭৯
Share on
فَوَيۡلٞ لِّلَّذِينَ يَكۡتُبُونَ ٱلۡكِتَٰبَ بِأَيۡدِيهِمۡ ثُمَّ يَقُولُونَ هَٰذَا مِنۡ عِندِ ٱللّٰهِ لِيَشۡتَرُواْ بِهِۦ ثَمَنٗا قَلِيلٗاۖ فَوَيۡلٞ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتۡ أَيۡدِيهِمۡ وَوَيۡلٞ لَّهُم مِّمَّا يَكۡسِبُونَ ٧٩
কাজেই দুর্ভোগ(১) তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে, অতঃপর সামান্য মূল্য পাওয়ার জন্য বলে, ‘এটা আল্লাহ্‌র কাছ থেকে’। অতএব, তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস এবং যা তারা উপার্জন করেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস(২)।— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
[২:৮০] সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত নং ৮০
Share on
وَقَالُواْ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامٗا مَّعۡدُودَةٗۚ قُلۡ أَتَّخَذۡتُمۡ عِندَ ٱللّٰهِ عَهۡدٗا فَلَن يُخۡلِفَ ٱللّٰهُ عَهۡدَهُۥٓۖ أَمۡ تَقُولُونَ عَلَى ٱللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ ٨٠
তারা বলে, ‘সামান্য কিছুদিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে কখনও স্পর্শ করবে না।’ বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহ্‌র কাছ থেকে এমন কোনো অঙ্গীকার নিয়েছ; যে অঙ্গীকারের বিপরীত আল্লাহ্‌ কখনও করবেন না? নাকি আল্লাহ্‌ সম্পর্কে এমন কিছু বলছ যা তোমরা জান না?’— ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
Page 8 of 29